টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার পাকিস্তানের সিদ্ধান্ত ঘিরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। দেশটির সরকারের ঘোষণার পর ক্রিকেট বিশ্লেষক থেকে শুরু করে সাবেক তারকারা প্রকাশ করছেন নিজেদের মতামত। এই প্রেক্ষাপটে ভারত-পাকিস্তান ইস্যুতে আইসিসিকে নিরপেক্ষ থাকার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আফ্রিদি লেখেন, তিনি সব সময় বিশ্বাস করেন—যেখানে রাজনীতি দরজা বন্ধ করে দেয়, সেখানে ক্রিকেট নতুন দরজা খুলে দিতে পারে। তবে দুঃখজনকভাবে এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে খেলবে না। একই সঙ্গে তিনি জানান, এই সিদ্ধান্তে তিনি নিজের সরকারের পাশেই আছেন—এমনটাই জানায় ডেইলি ক্রিকেট।
আফ্রিদির মতে, এখন আইসিসির সামনে বড় সুযোগ আছে। শুধু কথায় নয়, সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই আইসিসিকে প্রমাণ করতে হবে যে তারা সত্যিই নিরপেক্ষ, স্বাধীন এবং সব সদস্য দেশের প্রতি ন্যায়সঙ্গত।
এই টানাপোড়েনের শুরু হয় বিসিসিআইয়ের নির্দেশে কলকাতা নাইট রাইডার্স তাদের স্কোয়াড থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার পর। এর প্রতিবাদে ভারতে গিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
এরপর বিসিবি শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনের জন্য আইসিসির কাছে অনুরোধ জানালেও সেই দাবি মানা হয়নি। বরং বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে টুর্নামেন্টে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
বাংলাদেশকে বাদ দেওয়াকে অন্যায় বলে তখন মন্তব্য করেছিলেন পিসিবি প্রেসিডেন্ট মহসিন নাকভি। একই সঙ্গে তিনি বিশ্বকাপ নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দেন, যা শেষ পর্যন্ত ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্তে গড়ায়।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত বছর ইংল্যান্ডের এজবাস্টনে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লিজেন্ডসে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন ভারতের সাবেক ক্রিকেটাররা।
খেলাধুলায় রাজনীতির অনুপ্রবেশ নিয়ে তখনও ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন আফ্রিদি। তিনি বলেছিলেন, খেলাধুলা মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে। কিন্তু সবকিছুর মধ্যে রাজনীতি ঢুকে পড়লে এগিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় একটি ‘খারাপ ডিম’ই সবার জন্য পরিস্থিতি নষ্ট করে দেয়।
