স্পোর্টস ডেস্ক: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত ঘিরে ক্রিকেট দুনিয়ায় শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। ক্রিকেট বিশ্লেষক থেকে শুরু করে সাবেক তারকারা—সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে মত দিচ্ছেন। এবার সেই বিতর্কে মুখ খুললেন ভারতের ১৯৮৩ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক কপিল দেব।
কপিল দেবের স্পষ্ট বক্তব্য—ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করে পাকিস্তান আসলে নিজেদের ক্রিকেটারদের সঙ্গেই অবিচার করছে। তাঁর মতে, এই সিদ্ধান্তে খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিই বেশি।
এই টানাপোড়েনের শুরু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার ঘটনায়। বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। এ ইস্যুতে বড় সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন পিসিবি সভাপতি মহসিন নাকভি। তখনই গুঞ্জন ওঠে, পুরো বিশ্বকাপই বয়কট করতে পারে পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে অংশ নিলেও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি বয়কট করে তারা। এতে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে আইসিসি।
এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কপিল দেব বলেন,
‘যদি খেলোয়াড়েরা নিজেরা সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সামনে এসে তা বলতে পারে। কিন্তু বোর্ডের নির্দেশে যদি ম্যাচ না খেলা হয়, তাহলে সেটা দেশের ভাবমূর্তির জন্য ভালো নয়।’
তিনি আরও বলেন, এই সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের জন্য ভালো বার্তা দেয় না।
‘তোমরা একটা পুরো প্রজন্মকে ধ্বংস করে দিচ্ছো। অতীতে পাকিস্তান অনেক প্রতিভাবান ক্রিকেটার উপহার দিয়েছে। তাদের বিশ্বকাপ খেলতে না দিলে ক্ষতি হবে পুরো খেলাটারই। বাস্তবে পাকিস্তান নিজেদের ক্রিকেটারদের সঙ্গেই অবিচার করছে।’
ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করায় পাকিস্তানের দর্শক হারানোর আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। তবে কপিল দেব মনে করেন, এই সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদে খুব বড় প্রভাব ফেলবে না।
ভারতের সাবেক এই অধিনায়কের ভাষায়,
‘দর্শকেরা হয়তো কষ্ট পাবে, কিন্তু সময়ের সঙ্গে ভুলে যাবে। সবাই সামনে এগিয়ে যাবে। আসলে কেউ আর পাকিস্তানের জন্য অপেক্ষা করবে না। ক্রিকেট এগিয়ে যাবে, মানুষের আগ্রহও এগোবে।’
