ক্রিকেট বিশ্ব এখন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উত্তেজনায় গরম। কিন্তু মাঠের খেলা শুরুর আগেই মাঠের বাইরে শুরু হয়ে গেছে এক তীব্র কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক লড়াই। বাংলাদেশ নিরাপত্তাজনিত শঙ্কা দেখিয়ে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানালে, তাদের বদলে স্কটল্যান্ডকে দলে ভরে নিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।
এদিকে, বাংলাদেশের প্রতি এক ধরনের সংহতি দেখিয়েই হোক, বা অন্য কোনো কারণে, ভারতের বিপক্ষে তাদের ম্যাচ বয়কট করেছে পাকিস্তান। যদিও এই বয়কটের স্পষ্ট কারণ তারা প্রকাশ করেনি। অনেকের ধারণা, বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদেই পাকিস্তানের এই কঠোর সিদ্ধান্ত।
আইসিসির 'দুই রকম নীতি' নিয়ে পাকিস্তানে সমালোচনার ঝড় বইছে অনেকদিন ধরে। ক্রিকেটার থেকে শুরু করে বিশ্লেষক, সবার মুখেই অভিযোগের একই সুর। এবার সেই সমালোচনা সরকারি পর্যায়ে পৌঁছালো। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সরাসরি আইসিসি ভেঙে নতুন একটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা গঠনের দাবি তুলেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্টে তিনি লিখেছেন, 'জেন্টলম্যানের এই খেলার মূল চেতনা ও ন্যায্যতা ফিরিয়ে আনতে এখন একটি নতুন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার প্রয়োজন। বর্তমান আইসিসি পুরোপুরিভাবে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের রাজনৈতিক স্বার্থের বন্দী হয়ে পড়েছে।'
আইসিসির আয়ের একটি বিশাল অংশ আসে ভারতীয় বাজার থেকে। বাণিজ্যিক এই নির্ভরতার কারণেই আইসিসির অনেক সিদ্ধান্তে ভারতের প্রভাব লক্ষ্য করা যায় বলে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের অভিযোগ। ক্রিকেট বিশ্বের মোট আয়ের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই আসে ভারত থেকে, যার ফলে স্বাভাবিকভাবেই ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) আইসিসির সবচেয়ে শক্তিশালী ভোটার হয়ে উঠেছে।
আইসিসির যেকোনো বড় সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি প্রভাব রাখে ভারত, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ড। এই 'বিগ থ্রি'-র আধিপত্য পাকিস্তানের মোটেই পছন্দ নয়। এই নিয়ে তারা আগেও বারবার প্রতিবাদ জানিয়ে এসেছে। কিন্তু এবার একজন মন্ত্রীর কণ্ঠে আইসিসি ভেঙে নতুন সংস্থা গঠনের এমন রেডিক্যাল প্রস্তাব এসেছে, যা ক্রিকেট প্রশাসনে একটা বড় ধরনের আলোড়নের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
