ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপে লেস্টার সিটির অবস্থা এমনিতেই খারাপ। এর মধ্যে আরও বড় সমস্যা—ইনজুরির কারণে হামজা চৌধুরী দল থেকে ছিটকে পড়েছেন। তার ওপর এল আরও একটা বড় ধাক্কা।

ইংলিশ ফুটবল লিগ (ইএফএল) কর্তৃপক্ষ আর্থিক নিয়ম ভাঙার অভিযোগে লেস্টার সিটির ৬ পয়েন্ট কেটে নিয়েছে। ফলে দলটি পয়েন্ট তালিকায় ১৭তম থেকে সোজা নেমে গেছে ২০তম স্থানে।

চ্যাম্পিয়নশিপে মোট ২৪ দলের মধ্যে লেস্টার এখনো অবনমন অঞ্চলের তিন দলের ওপরে আছে। কিন্তু পয়েন্ট সমান ওয়েস্ট ব্রুম এবং ব্ল্যাকবার্ন রোভার্সের। গোল গড়ের কারণে লেস্টার তাদের থেকে এক ধাপ উপরে রয়েছে।

২০২৩-২৪ মৌসুম পর্যন্ত তিন বছরের লাভ ও টেকসই নীতি (পিএসআর) ভঙ্গের অভিযোগে গত মে মাসে প্রিমিয়ার লিগ লেস্টারের বিরুদ্ধে মামলা করে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই এখন ইএফএল শাস্তি দিয়েছে।

প্রিমিয়ার লিগ থেকে গত মৌসুমে অবনমন হওয়ার পর লেস্টারের এখন কোনো স্থায়ী কোচ নেই। জানুয়ারিতে মার্তি সিফুয়েন্তেসকে বরখাস্ত করার পর থেকে ক্লাব কোচবিহীন। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত কোচ অ্যান্ডি কিং দলের দায়িত্ব পালন করছেন। ক্লাব এই পরিস্থিতিতে খুব হতাশ। তারা শাস্তির সিদ্ধান্তকে ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ বলছে।

লেস্টারের পক্ষ থেকে একটা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “প্রিমিয়ার লিগ যে শাস্তির দাবি করেছিল, তা কমিশনের পর্যবেক্ষণের পর অনেকটা কমানো হয়েছে। তবে সুপারিশটা এখনো অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং আমাদের উপস্থাপিত বিষয়গুলো যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। এসব বিষয় চলতি মৌসুমে আমাদের লক্ষ্যকে প্রভাবিত করতে পারে, তাই এগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ।”

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “আমরা এখন পুরো সিদ্ধান্তটা পর্যালোচনা করছি এবং আমাদের সামনে কী কী বিকল্প আছে তা বিবেচনা করছি। আমরা গঠনমূলকভাবে আলোচনা করতে চাই এবং নিশ্চিত করতে চাই যে, যেকোনো পদক্ষেপ যেন ন্যায্য, আনুপাতিক এবং যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নেওয়া হয়।”

পিএসআর নীতিমালা অনুযায়ী, প্রিমিয়ার লিগের কোনো ক্লাব তিন বছরে সর্বোচ্চ ১০ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড লোকসান করতে পারবে। কিন্তু দ্বিতীয় স্তরে নেমে গেলে প্রতি মৌসুমে এই সীমা ২ কোটি ২০ লাখ পাউন্ড করে কমে যায়। ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, লেস্টার সিটির লোকসান হয়েছে ১ কোটি ৯৪ লাখ পাউন্ড।

২০২২-২৩ মৌসুমে লেস্টারের আর্থিক বিবরণীতে বলা হয়, তারা ওই সময় ৮ কোটি ৯৭ লাখ পাউন্ড লোকসান করেছে। আর ২০২২ সালের মে পর্যন্ত ১২ মাসে তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় লোকসান ছিল ৯ কোটি ২৫ লাখ পাউন্ড। তবে এই হিসাবে অবকাঠামো নির্মাণ বা নারী ফুটবলে বিনিয়োগের মতো খরচ অন্তর্ভুক্ত হয়নি, যা সাধারণভাবে ক্লাবের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যয় হিসেবে গণ্য হয়।
প্রিমিয়ার লিগের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও লেস্টার চ্যাম্পিয়নশিপে নেমে যাওয়ার পর মামলার দায়িত্ব নেয় ইএফএল।

 

Walton Ads