২০২৪ সালের ৮ জুন—গায়ানার প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের কাছে ৮৪ রানের বড় হার হজম করেছিল নিউজিল্যান্ড। সেই ম্যাচের ধাক্কাতেই সুপার এইটে ওঠা হয়নি কিউইদের। দীর্ঘ ২০ মাসের অপেক্ষা শেষে আজ রোববার চেন্নাইয়ের এমএ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে সেই হারের যেন মধুর প্রতিশোধটাই নিল ব্ল্যাক ক্যাপসরা।
১৮৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নিউজিল্যান্ডের শুরুটা ছিল ভয়াবহ। মাত্র ১.৪ ওভারে ২ উইকেটে ১৪ রান—চাপ যেন তখন পুরোপুরি আফগানিস্তানের দখলে। দ্বিতীয় ওভারের তৃতীয় ও চতুর্থ বলে ফিন অ্যালেন (১) ও রাচীন রবীন্দ্রকে (০) বোল্ড করে ফেরান মুজিব উর রহমান। তবে ধাক্কা সামলে ম্যাচে ফেরান টিম সাইফার্ট ও গ্লেন ফিলিপস। তৃতীয় উইকেটে এই দু’জন মিলে ৪৭ বলে ৭৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন।
দশম ওভারের দ্বিতীয় বলে গ্লেন ফিলিপসকে বোল্ড করেন রশিদ খান। ২৫ বলে ৭ চার ও ১ ছক্কায় ফিলিপস করেন ৪২ রান। এক প্রান্ত আগলে রেখে সাইফার্ট তুলে নেন তাঁর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ১৪তম ফিফটি। ৪২ বলে ৭ চার ও ৩ ছক্কায় তিনি করেন ৬৫ রান। ১৩তম ওভারের পঞ্চম বলে সাইফার্টকে আউট করে আফগানিস্তানকে ফের ম্যাচে ফেরান মোহাম্মদ নবি।
এর আগে চেন্নাইয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন আফগান অধিনায়ক রশিদ খান। পাওয়ারপ্লেতে ২ উইকেট হারিয়ে ৪৪ রান তোলে আফগানিস্তান। ধীরে শুরু হলেও পরে গতি বাড়ায় তারা। তৃতীয় উইকেটে ৫১ বলে ৭৯ রানের জুটি গড়েন গুলবাদিন নাইব ও সেদিকউল্লাহ আতাল। তিন নম্বরে নামা গুলবাদিন ৩৫ বলে ৩ চার ও ৪ ছক্কায় করেন ৬৩ রান, যা আফগান ইনিংসে সর্বোচ্চ। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৮২ রান সংগ্রহ করে আফগানরা।
নিউজিল্যান্ডের হয়ে লকি ফার্গুসন ৪ ওভারে ৪০ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন। একটি করে উইকেট পান রাচীন রবীন্দ্র, ম্যাট হেনরি ও জ্যাকব ডাফি। রাচীন ১ ওভারে ১৪ রান দিয়ে নেন একটি উইকেট। ১৮তম ওভারের প্রথম বলে রাচীনকে ছক্কা মারলেও পরের বলেই বড় শট খেলতে গিয়ে আকাশে তুলে দেন গুলবাদিন। উইকেটরক্ষক টিম সাইফার্ট সহজ ক্যাচ নেন।
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ‘ডি’ গ্রুপকে বলা হচ্ছে আসল গ্রুপ অব ডেথ। নিউজিল্যান্ড, আফগানিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো শক্তিশালী দলগুলোর সঙ্গে রয়েছে কানাডা ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। সেই কঠিন গ্রুপের প্রথম ম্যাচেই আফগানিস্তানকে ৫ উইকেটে হারিয়ে দারুণ সূচনা করল নিউজিল্যান্ড।
