ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ না খেলার হুমকি দিয়ে পাকিস্তান যে নাটক করে চলেছে, তা একেবারেই মেনে নিতে পারছেন না ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি। পাকিস্তানের এই অদ্ভুত সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ ঝাড়লেন ‘দাদা’। একই সঙ্গে তিনি ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দলের আক্রমণাত্মক ক্রিকেট দর্শনের পক্ষেও জোরালো সওয়াল করেন।

স্রেফ দেখো আর মারো—প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে দাও। গম্ভীর জমানায় এটাই ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দলের মূল দর্শন। যদিও এই একরোখা আক্রমণাত্মক ব্যাটিং যে যেকোনো দিন বিপদ ডেকে আনতে পারে, তার উদাহরণ মিলেছে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই। আমেরিকার বিরুদ্ধে ম্যাচে শুরুতেই ধস নামে ভারতীয় ব্যাটিংয়ে। অভিষেক শর্মা, ঈশান কিষান, তিলক বর্মা, রিঙ্কু সিং, হার্দিক পাণ্ডিয়া—ব্যাটিং অর্ডারের একের পর এক বড় নাম ব্যর্থ হন।

তবে এসব নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নন সৌরভ। তাঁর মতে, প্রতিযোগিতা যত এগোবে, ততই ভারতের ধার বাড়বে। তিনি বলেন, “ভারত খুবই শক্তিশালী দল। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং—সব বিভাগেই দারুণ ভারসাম্য রয়েছে। বিশ্বকাপ যত সামনে যাবে, দল আরও ভালো খেলবে। ছন্দ ফিরে আসবে। ভারতই ট্রফি জেতার বড় দাবিদার।”

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে আক্রমণাত্মক খেলতে গিয়ে উইকেট হারানোর কথাও স্বীকার করেছেন মহারাজ। একসময় ৪৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় টিম ইন্ডিয়া। সেখান থেকে অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে কোনোমতে ম্যাচে ফেরে দল। সৌরভের ভাষায়, “টি-টোয়েন্টি তো এমনই। আগ্রাসী হতেই হবে। ওরা সবাই অসাধারণ ক্রিকেটার। অনেক দিন ধরেই এমন খেলছে। কিন্তু ওরাও মানুষ, তাই এক-আধদিন ব্যর্থতা আসতেই পারে।”

পাকিস্তান প্রসঙ্গে সৌরভ স্পষ্ট বলেন, “ওদের না খেলার তো কোনো কারণই নেই। কেন খেলবে না, সেটাই বুঝতে পারছি না। বিশ্বকাপে ওরা ভারতের বিরুদ্ধে শ্রীলঙ্কায় খেলবে। তাহলে সমস্যাটা কোথায়? এটা বিশ্বকাপ—প্রতিটা পয়েন্ট ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তান যদি না খেলে, সেটাই হবে সবচেয়ে অবাক করার বিষয়।”

উল্লেখ্য, এর একদিন আগেই কিংবদন্তি ক্রিকেটার সুনীল গাভাসকর ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে আইসিসিকে পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ে দীর্ঘদিনের ভারসাম্যহীনতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। এবার সেই সুরেই কথা বললেন সৌরভ গাঙ্গুলিও।

 

Walton Ads