অবশেষে মিলল সমাধান! গত মধ্যরাতের দিকেই পাকিস্তান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিল যে, তারা ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে ভারতের বিপক্ষে বিশ্বকাপের সেই প্রত্যাশিত ম্যাচটি খেলবে। পাকিস্তানের এই ঘূর্ণিবাতাসের মতো সিদ্ধান্ত বদলের পেছনে রয়েছে গত কয়েক দিনের জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা ও ক্রিকেট প্রশাসনের চাপ।

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এবং আইসিসির একটি প্রতিনিধিদলের মধ্যে গত পরশু লাহোরে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছিল, যেখানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনও উপস্থিত ছিলেন। সেই বৈঠকের পর থেকেই পাকিস্তানের অবস্থান নরম হওয়ার ইঙ্গিত মিলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় আইসিসিও একটি বিবৃতি দিয়ে জানায়, সব সদস্য দেশ ভবিষ্যতে আইসিসির ইভেন্টে অংশ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

বৈঠকের পর পিসিবির চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে দেখা করেন। সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জানান যে, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বেশ কয়েকটি দেশ বিশ্ব ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থে পাকিস্তানকে ভারত ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার জন্য অনুরোধ করেছে।

মহসিন নাকভি প্রধানমন্ত্রীকে আরও জানান যে, আইসিসি বিশ্বকাপে না খেলার জন্য বাংলাদেশকে কোনো শাস্তি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং ২০৩১ বিশ্বকাপের আগে একটি বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে। পাকিস্তানের বিবৃতিতে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের সাথেও প্রধানমন্ত্রীর টেলিফোন আলোচনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন জানিয়েছিলেন, লাহোরের বৈঠকে পাকিস্তান বাংলাদেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু শর্তও আইসিসির সামনে উত্থাপন করেছিল। বিশ্বকাপ বয়কট করায় যাতে বাংলাদেশ কোনো শাস্তি বা ক্ষতির মুখে না পড়ে, সেই দাবিও সেখানে জোরালোভাবে তুলে ধরেন পিসিবি প্রধান।

দেশে ফিরে বিসিবি এক বিবৃতিতে জানায়, বিসিবি প্রধান মহসিন নাকভিকে অনুরোধ করেছিলেন যেন বৈশ্বিক ক্রিকেটের স্বার্থেই পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে খেলতে মাঠে নামে। এখন দেখা যাক, ১৫ তারিখের সেই ম্যাচে দুই দল কী ধরনের খেলা উপহার দেয়।

 

Walton Ads