টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট করার পর অনেকেই ভেবেছিলেন – এবার বিসিবির উপর কড়া শাস্তি আসবে। কিন্তু না! আইসিসি বাংলাদেশকে কোনো শাস্তি দেয়নি।
উল্টো বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় সংস্থা বাংলাদেশকে একটা বৈশ্বিক ইভেন্ট আয়োজনের সুযোগ দিচ্ছে বলে জানিয়েছে। এই খবরে বিসিবিতে এখন স্বস্তির নিঃশ্বাস!
বিশ্বকাপ বয়কটের কারণে বাংলাদেশকে বড় অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছিল। তার ওপর আইসিসির জরিমানার ভয়ও ছিল। কিন্তু জরিমানা না হওয়ায় বিসিবির সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদের মুখে হাসি ফুটেছে।
ক্রিকবাজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফারুক বলেন, “আমি মনে করি আর্থিক জরিমানা না হওয়ায় আমরা খুব স্বস্তি পেয়েছি। বিশেষ করে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার পর চারদিকে অনেক গুঞ্জন, অনেক আলোচনা চলছিল।”
জাতীয় দলের সাবেক এই ক্রিকেটার আরও বলেন, “একাধিক নিষেধাজ্ঞা ও শাস্তি আসার সম্ভাবনা ছিল, কিন্তু সেগুলো শেষ পর্যন্ত ঠেকানো গেছে। বিশ্বকাপে না খেলায় যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, সেটা সরাসরি পূরণ না হলেও বদলে কিছু বড় টুর্নামেন্ট আয়োজনের সুযোগ পাওয়া যাবে – যেমন নারী বিশ্বকাপ।”
সম্প্রতি লাহোরে আইসিসি ও পিসিবির একটা গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে। সেখানে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলও উপস্থিত ছিলেন। ফারুক মনে করেন, এই বৈঠকের পর আইসিসির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আবার উন্নতির দিকে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, “শুধু জরিমানা এড়ানো নয়, আরও নানা জটিলতা তৈরি হতে পারত। কিন্তু লাহোরের বৈঠকের পর যে সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে, তাতে স্পষ্ট যে আইসিসির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ধীরে ধীরে ভালো হচ্ছে।”
প্রসঙ্গত, ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে রাজি হয়নি বিসিবি। তারা আইসিসির কাছে দাবি করেছিল টাইগারদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়া হোক। কিন্তু আইসিসি সেই দাবি মানেনি। উল্টো বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দিয়েছে। তবে বাংলাদেশের ক্ষতির কথা মাথায় রেখে আইসিসি এখন একটা বড় ইভেন্টের আয়োজক স্বত্ব দেবে।
ফারুক এ প্রসঙ্গে বলেন, “আগামী বছর আমরা নারী অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ আয়োজন করছি। আর ২০৩১ সালে ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ করব। এছাড়া আরও বেশি ম্যাচ আয়োজনের জন্যও আমরা ভাবছি।”