স্পোর্টস ডেস্ক: ম্যাচ বর্জনের জল্পনা, বৃষ্টির শঙ্কা—সব নাটক পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত মাঠে গড়িয়েছে ভারত-পাকিস্তান হাইভোল্টেজ লড়াই। কলম্বোর প্রেমাদাসা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পাকিস্তানের অধিনায়ক সালমান আলী আগা। তবে টসের ফল নয়, আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ‘নো হ্যান্ডশেক’ ইস্যুই।

আরও একবার টসের পর হাত মেলাননি দুই দলের অধিনায়ক সালমান আলী আগা ও সূর্যকুমার যাদব। এই ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল গত সেপ্টেম্বরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপে। সে আসরে ভারত-পাকিস্তান তিনবার মুখোমুখি হলেও কোনো ম্যাচেই দুই দলের খেলোয়াড়েরা হাত মেলাননি। এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চেও সেই ধারাই বজায় থাকল।

টসের পর উপস্থাপকের সামনে নিজের সিদ্ধান্ত জানান সালমান। প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষ হলে উপস্থাপকের দিকে এগিয়ে আসছিলেন সূর্যকুমার। ঠিক সেই সময় দুজন একে অপরকে পাশ কাটিয়ে চলে যান। কেউ কারও দিকে তাকাননি, হাতও মেলাননি। গ্যালারিতে তখন দুই দলের সমর্থকদের গর্জন শোনা যায়। মুহূর্তেই দৃশ্যটি ভাইরাল হয়ে যায় সামাজিক মাধ্যমে।

পেছনের প্রেক্ষাপটও কম আলোচিত নয়। ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে গত বছরের এপ্রিলে সন্ত্রাসী হামলায় পর্যটক নিহতের ঘটনায় ভারত-পাকিস্তানের রাজনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে তিক্ততা তৈরি হয়। সেই ঘটনার জের ধরেই এশিয়া কাপে পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাত মেলাননি সূর্যকুমার। বিষয়টি নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে কথা বলেছেন সাবেক ক্রিকেটার ও বিশ্লেষকেরা। পুরো আসরজুড়েই ছিল তুমুল বিতর্ক। এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও একই চিত্র সেই বিতর্ককে যেন আবার উসকে দিল।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস আগেই জানিয়েছিল, পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে টসের সময় সালমান আলী আগার সঙ্গে সূর্যকুমার যাদবের হাত না মেলানোর সম্ভাবনাই বেশি। শেষ পর্যন্ত সেটিই সত্যি হলো।

ভারতের সাবেক ক্রিকেটার হরভজন সিং এ বিষয়ে বলেছেন, ম্যাচে হাত মেলাতেই হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। বার্তা সংস্থা পিটিআইকে তিনি বলেন, ‘এটা পুরোপুরি খেলোয়াড়দের ইচ্ছার বিষয়। কোথাও লেখা নেই যে ম্যাচের পর অবশ্যই হ্যান্ডশেক বা আলিঙ্গন করতে হবে। ম্যাচ খেলুন, পুরো শক্তি দিয়ে খেলুন। তারপর যদি মনে হয়, হ্যান্ডশেক বা আলিঙ্গন করা উচিত, তাহলে করবেন। অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের দেখুন, তারা ম্যাচের পর একসঙ্গে বসে। ক্রিকেটকে ক্রিকেট হিসেবেই দেখা উচিত।’

 

news