আর্জেন্টাইন ফুটবলের জীবন্ত কিংবদন্তি অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া। ২০২৪ সালে জাতীয় দল থেকে অবসর নেন তিনি। আর্জেন্টিনার হয়ে ১৪৫ ম্যাচে ৩১ গোল করা ৩৮ বছর বয়সী এই তারকা এখনও দুর্দান্ত ছন্দে আছেন। বয়স যেন কেবলই সংখ্যা! গোল করছেন, করাচ্ছেন—দলের জয়ে রাখছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
শৈশবের ক্লাব রোসারিও সেন্ট্রাল-এর হয়ে খেলছেন সাবেক আলবিসেলেস্তে তারকা। আর তার এই ফর্মই উসকে দিচ্ছে বড় প্রশ্ন—আসন্ন বিশ্বকাপে কি আবার আকাশী-সাদা জার্সিতে দেখা যাবে ডি মারিয়াকে?
মাঠে এখনো আগুন ‘এল ফিদিও’
আর্জেন্টিনার লিগা প্রফেশনালে সোমবার বারাকা সেন্ট্রালের বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে একবার প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠান ডি মারিয়া। আগের দুই ম্যাচেও সতীর্থদের দিয়ে দুই গোল করিয়েছেন ‘এল ফিদিও’।
রোসারিও সেন্ট্রালের ইতিহাসে ৩৮ বছর বয়সের পর গোল করা মাত্র চারজন খেলোয়াড়ের একজন তিনি। এই পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে—ফুরিয়ে যাননি ডি মারিয়া। বরং এখনো দলের জন্য বড় সম্পদ।
বিশ্বচ্যাম্পিয়ন গোলকিপারের ইঙ্গিত
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার জার্সিতে ডি মারিয়াকে দেখা যেতে পারে—এমনটাই বিশ্বাস করেন সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন গোলকিপার উবালদো মাতিলদা ফিল্লোল।
১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনার প্রথম বিশ্বকাপ জয়ী দলের এই সদস্য সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও শেয়ার করে বলেন, কোচিং স্টাফ ও কিছু খেলোয়াড় ডি মারিয়াকে জাতীয় দলে ফিরতে উৎসাহিত করছেন।
ফিল্লোলের ভাষায়, “আমি যা দেখছি, তাতে মনে হয় সে অবশ্যই খেলতে আসবে। এতে কোনো সন্দেহ নেই। আমি মনে করি তারা তাকে পরবর্তী বিশ্বকাপে খেলতে রাজি করাতে পারবে।”
সমর্থকদের বিভক্ত প্রতিক্রিয়া
ফিল্লোলের ওই পোস্টে সমর্থকদের মন্তব্যে দেখা গেছে ভিন্ন মত। কেউ মনে করছেন, আলবিসেলেস্তের সঙ্গে ডি মারিয়ার বিদায়টাই ছিল সেরা সমাপ্তি। আবার অনেকে বলছেন—বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে চাইলে তাকে দলে ফিরতেই হবে।
কেউ কেউ চান, নিয়মিত একাদশে না খেললেও অন্তত দলকে সঙ্গ দিন তিনি।
ফিল্লোল তুলনা টেনেছেন লিওনেল মেসি-র লিগ ও আর্জেন্টিনার লিগের প্রতিযোগিতা নিয়েও। তার মতে, আর্জেন্টিনার লিগ বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। সেখানে নিয়মিত ভালো পারফর্ম করা সহজ নয়। আর ডি মারিয়া সেটাই করে দেখাচ্ছেন।
তার ভাষায়, “তার গতিশীলতা আছে, ক্ষুধা আছে, আর সে গোল করছে।”
এখন সব প্রশ্নের উত্তর সময় দেবে। তবে ডি মারিয়ার বর্তমান ফর্ম দেখে একটাই কথা বলা যায়—বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি তার জন্য।