পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খান বর্তমানে জেলবন্দি। ভীষণ অসুস্থ তিনি। এমন খবর সামনে আসার পর ক্রিকেটমহলে নড়চড় পড়ে যায়। ইমরানের পাশে দাঁড়াতে একজোট হলেন বিশ্ব ক্রিকেটের ১৪ জন প্রাক্তন অধিনায়ক। পাকিস্তান সরকারকে চিঠি লিখে ইমরানের যথাযথ চিকিৎসা ও মানবিক আচরণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। কিন্তু এই উদ্যোগের নেপথ্যের নায়ক কে? আর কারা ছিলেন সবচেয়ে সক্রিয়? সেই চমকপ্রদ তথ্যই এখন সামনে আনলেন অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি গ্রেগ চ্যাপেল।
গ্রেগ চ্যাপেল জানিয়েছেন, এই পুরো উদ্যোগের সূত্রপাত তাঁর মাথা থেকেই। ইমরানের ঘনিষ্ঠ এক বন্ধুর মাধ্যমে খবর পেয়ে তিনি খুব উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। ইমরানের পরিবারের কেউ জেলে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারছেন না শুনে তিনি ভাবতে শুরু করেন, কী করা যায়। তখন এক বন্ধুর পরামর্শে তিনি প্রাক্তন অধিনায়কদের নিয়ে একটি প্রতিবাদী চিঠি লেখার কথা ভাবেন।
কিন্তু এতগুলো দেশের অধিনায়কদের সঙ্গে যোগাযোগ করার সময় একটি বড় সমস্যার মুখে পড়েন গ্রেগ। ভারত-পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব। ইমরান শুধু প্রাক্তন ক্রিকেটার নন, তিনি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রীও। ক্ষমতায় থাকাকালীন তাঁর কিছু অবস্থান ভারতবিরোধী ছিল। তাই ভারতীয় ক্রিকেটারদের এই উদ্যোগে আনা ঠিক হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় ছিল গ্রেগের।
তবুও সাহস করে যোগাযোগ করলেন ভারতের দুই কিংবদন্তি অধিনায়ক সুনীল গাভাসকার ও কপিল দেবের সঙ্গে। গ্রেগ চ্যাপেল জানান, দু'জনেই সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে যান। শুধু রাজিই নয়, এই উদ্যোগে তাঁরা ছিলেন সবচেয়ে সক্রিয়।
গ্রেগ চ্যাপেলের ভাষায়, "আমার তো মনে হয় সকলের চেয়ে ওরা দু'জনই বেশি সক্রিয় ছিল। আমাদের চেয়ে ওদের উপর চাপও নিশ্চয়ই বেশি ছিল। তাও কেউ আপত্তি করেনি। গাভাসকারের মন্তব্য তো সকলে দেখেছেন। ইমরানকে দীর্ঘদিনের বন্ধু বলেছে।"
প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে লেখা ওই চিঠিতে গ্রেগ চ্যাপেল, সুনীল গাভাসকার, কপিল দেব ছাড়াও সই করেছিলেন মাইকেল আথারটন, অ্যালান বর্ডার, মাইক ব্রিয়ারলি, ইয়ান চ্যাপেল, বেলিন্ডা ক্লার্ক, ডেভিড গাওয়ার, কিম হিউজ, নাসের হুসেন, ক্লাইভ লয়েড, স্টিভ ওয়া এবং জন রাইটের মতো তারকারা।
ক্রিকেটের মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতা পাশ কাটিয়ে মানবিকতার জায়গায় যখন এক হয়ে দাঁড়ান প্রাক্তন অধিনায়করা, তখন সেই দৃষ্টান্তই তুলে ধরল এই ঘটনা। বিশেষ করে ভারত-পাকিস্তানের জটিল সম্পর্কের মাঝেও গাভাসকার ও কপিল দেবের এই সক্রিয়তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। ইমরান খানের সুস্থতা কামনা করছে গোটা ক্রিকেট বিশ্ব।