স্পোর্টস ডেস্ক: শিরোপা ধরে রাখার মিশন শুরু হতেই বড় ধাক্কা খেল ইন্টার মায়ামি। নতুন মৌসুমের প্রথম ম্যাচেই ৩-০ গোলে হার মানতে হলো গতবারের চ্যাম্পিয়নদের। রোববার সকালে লস অ্যাঞ্জেলেস এফসি-র কাছে একেবারেই ছন্নছাড়া দেখিয়েছে মায়ামিকে।
পুরো ম্যাচ খেলেও গোল বা অ্যাসিস্ট—কিছুই করতে পারেননি লিওনেল মেসি। হ্যামস্ট্রিং চোট কাটিয়ে মাঠে নামলেও তার স্বাভাবিক ছন্দ চোখে পড়েনি।
গ্যালারিতে রেকর্ড ভিড়
লস অ্যাঞ্জেলেস কলিজিয়ামে এদিন উপস্থিত ছিলেন ৭৫ হাজার ৬৭৩ জন দর্শক। এমএলএস ইতিহাসে উদ্বোধনী সপ্তাহের কোনো ম্যাচে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উপস্থিতির রেকর্ড। শুরু থেকেই উত্তেজনায় টগবগ করছিল গ্যালারি।
নতুন মুখ, নতুন চ্যালেঞ্জ
ডিসেম্বরে এমএলএস কাপ জয়ের পর জর্দি আলবা ও সার্জিও বুসকেটস অবসরে যাওয়ায় কোচ হাভিয়ের মাসচেরানো শুরুর একাদশে তিন নতুন খেলোয়াড়কে সুযোগ দেন।
মেক্সিকোর গেরমান বেরতেরামে আক্রমণে মেসির সঙ্গী হন। রক্ষণে জায়গা পান ব্রাজিলিয়ান মিকায়েল। আর গোলকিপার হিসেবে মায়ামির জার্সিতে অভিষেক হয় কানাডিয়ান তারকা ডেইন সেন্ট ক্লেয়ারের।
সনের ঝলক, মায়ামির দুঃস্বপ্ন
এমএলএসের দুই বড় তারকার লড়াইয়ে এদিন এগিয়ে ছিলেন সন হিউং-মিন। লিগের রেকর্ড সাইনিং সন নিজের প্রথম পূর্ণ মৌসুমের শুরুতেই ছাপ রেখে দেন।
৩৭ মিনিটে তার বাড়ানো বল থেকেই ডেভিড মার্তিনেস ম্যাচের প্রথম গোল করেন। সেই গোলেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়।
পাল্টা আক্রমণে শেষ আঘাত
দ্বিতীয়ার্ধে সমতায় ফেরার মরিয়া চেষ্টা করে মায়ামি। কিন্তু উল্টো পাল্টা আক্রমণে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় এলএএফসি। টিমোথি টিলম্যানের লম্বা পাসে সেন্ট ক্লেয়ার পেনাল্টি এলাকার বাইরে আটকে পড়েন। সুযোগ বুঝে ডেনিস বুয়াঙ্গা ফাঁকা জালে বল পাঠান।
শেষদিকে দাঁড়িয়ে অভিবাদনের মধ্যে মাঠ ছাড়েন সন। তার বদলি ন্যাথান ওর্ডাজ ডান পায়ের নিখুঁত ফিনিশিংয়ে স্কোরলাইন ৩-০ করেন। তাতেই নিশ্চিত হয় মায়ামির বড় হার।
মেসির ম্লান প্রত্যাবর্তন
চোট কাটিয়ে ফিরলেও ম্যাচে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেননি মেসি। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার একটি শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
এখন ঘুরে দাঁড়ানোর অপেক্ষা। আগামী ২ মার্চ অরল্যান্ডো সিটি এসসি-র বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামবে মায়ামি।
চ্যাম্পিয়নদের শুরুটা হতাশার হলেও মৌসুম তো সবে শুরু—এখন দেখার, মেসির জাদু কবে ফিরিয়ে আনে জয়।