স্পোর্টস ডেস্ক: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই বড় ধাক্কা খেল ভারত। শক্তিশালী দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৭৬ রানের ব্যবধানে হারতে হয়েছে সুরিয়া কুমার ইয়াদভদের। এই পরাজয়ে সেমিফাইনালে ওঠা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হলেও সাবেক ভারতীয় কোচ রবি শাস্ত্রী কিন্তু উল্টো সুরে কথা বললেন।
তার মতে, এই হারই নাকি ভারতের জন্য আশীর্বাদ হতে পারে!
‘শুরুতেই ধাক্কা দরকার ছিল’
শাস্ত্রী বলেন, তিনি খুশি যে হারটা শুরুতেই এসেছে, বিশেষ করে এমন একটি দলের বিপক্ষে যারা সেমিফাইনালে যাওয়ার দাবিদার। তাঁর কথায়, এই ধাক্কাই হয়তো ভারতের প্রয়োজন ছিল।
তিনি বলেন, এই হার দলকে কৌশল ও একাদশ নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে। তাঁর বিশ্বাস, ভারত ঘুরে দাঁড়াবে এবং এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেবে। তবে সতর্কবার্তাও দিয়েছেন—সুপার এইটে আরেকটি ম্যাচ হারলে বড় চাপে পড়ে যেতে হবে।
অক্ষর না থাকা কি ভুল সিদ্ধান্ত?
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচে একাদশে ছিলেন না অক্ষর প্যাটেল। তাঁর জায়গায় খেলেছেন ওয়াশিংটন সুন্দর।
শাস্ত্রীর মতে, পরবর্তী ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অক্ষরকে দলে ফেরানো উচিত। প্রয়োজনে ওয়াশিংটনের সঙ্গেও একাদশে রাখা যেতে পারে।
তিনি বলেন, অভিজ্ঞতা খুব জরুরি। সম্ভব হলে দু’জনকেই খেলানো উচিত। কারণ যেকোনো দিনে একজন বোলারের খারাপ দিন যেতেই পারে। উদাহরণ হিসেবে তিনি তুলে ধরেন বরুণ চক্রবর্তী-র কথা, যিনি আগের ম্যাচে নিজের সেরা ছন্দে ছিলেন না এবং দলকে তার মূল্য দিতে হয়েছে।
অতিরিক্ত বোলিং বিকল্পের অভাব
ভারতের একাদশে অতিরিক্ত বোলিং অপশন থাকা উচিত বলেও মনে করেন শাস্ত্রী। তাঁর মতে, টি-টোয়েন্টিতে যদি আটজন ব্যাটার কাজটা করতে না পারে, তাহলে কোথাও না কোথাও সমস্যা রয়েছে।
রিংকু সিং-কে নিয়ে তিনি বলেন, তাকে খেলালে বিশেষজ্ঞ ব্যাটার হিসেবেই খেলানো উচিত। রিংকু বাদ পড়তে পারেন, তবে তাকে দলে নিলে সেটা যেন কোনও বিশেষজ্ঞ ব্যাটারের জায়গায় হয়।
সব মিলিয়ে, বড় হারের পরও রবি শাস্ত্রীর বার্তা স্পষ্ট—এখনই ঘাবড়ানোর সময় নয়। বরং ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে দলগঠন ও কৌশলে পরিবর্তন আনলেই সেমিফাইনালের পথ আবারও খুলে যেতে পারে।
