মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড (এমসিজি) এক ধরণের ক্রিকেটের আতুড়ঘর, যেখানে প্রবেশের আগে থেকেই ইতিহাসের চমক চোখে পড়ে। কমপ্লেক্সের সামনে ব্র্যাডম্যানসহ অন্যান্য কিংবদন্তি ক্রিকেটার ও ক্রীড়াবিদদের ছবি সাজানো। অর্ভথ্যনা কক্ষে ভ্রমণপিপাসু দর্শকের ভিড় চোখে পড়ে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর মেলবোর্নে ভ্রমণপিপাসুদের মধ্যে অনেকেই এই স্টেডিয়ামটি দেখতে আসে।

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সিইও টুডের সঙ্গে যোগাযোগ থাকায় প্রতিবেদক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু আবু কাউসারের জন্য স্টেডিয়াম ও জাদুঘরের টিকিটের ব্যবস্থা ছিল। মেলবোর্ন ক্রিকেট ক্লাবের কমিউনিকেশন কর্মকর্তা উইল শুরু থেকেই সঙ্গ দিয়েছেন। ১৮৭৭ সালে প্রথম টেস্ট এবং ১৯৭১ সালে প্রথম ওয়ানডে খেলার শুরু এই ভেন্যুতেই। পরতে পরতে ইতিহাস ও ঐতিহ্য চোখে পড়ে।

প্রায় এক লাখ দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামটি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান ভেন্যু হলেও মূলত মেলবোর্ন ক্রিকেট ক্লাবের কর্তৃত্ব। বিভিন্ন দেশের ক্লাবের সফর ও সৌজন্য বিনিময় হয়েছিল, এবং সেই সকল ক্লাবের ব্লেজার সংরক্ষিত রয়েছে ব্লেজার কর্ণারে।

১৮৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত মেলবোর্ন ক্রিকেট ক্লাবের ইতিহাস বিশেষভাবে সংরক্ষিত। সভাপতিদের নাম এবং অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলানো ক্রিকেটারদের তালিকা দেয়ালে আছে। ভিক্টোরিয়া রাজ্যের প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটারদের তালিকাও বড় অংশ জুড়ে। সিনিয়র সদস্যরা সবচেয়ে ভালো আসনে বসে খেলা উপভোগ করতে পারেন।

মেলবোর্নেও আছে অনার্স বোর্ড, যদিও সিডনির মতো এখানে শুধু টেস্টের নাম খোদাই করা হয়েছে। ১৮৭৭ সালের অভিষেক টেস্ট থেকে শুরু করে, সেঞ্চুরি ও পাঁচ উইকেট নেওয়া খেলোয়াড়দের নাম আছে। এই ভেন্যুতে একাধিক হ্যাটট্রিকও হয়েছে।

এমসিজিতে রয়েছে লাইব্রেরি, যেখানে ক্রিকেটারদের আত্মজীবনী ও ইংরেজি বইয়ের পাশাপাশি অন্যান্য খেলার গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রহ রয়েছে। উইল জানিয়েছেন, “আগামী বছর টেস্ট ক্রিকেটের ১৫০ বছর পূর্তি, ইংল্যান্ড সফর করবে এবং মেলবোর্নে টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। টিকিটের চাহিদা ইতোমধ্যেই তুঙ্গে।”

ব্র্যাডম্যানের কীর্তি, শচীন টেন্ডুলকারের সঙ্গে জন্মদিনের ছবি, ম্যাচের স্কোরকার্ড—সবই নস্টালজিক অভিজ্ঞতা দেয়।

যদিও দর্শক ধারণক্ষমতা বিশাল, প্রেস বক্স ও সাংবাদিক সম্মেলন কক্ষ ছোট, বড় খেলার সময় সাংবাদিকদের জন্য সমন্বয় করতে হয়।

স্টেডিয়ামের নিচে আছে অস্ট্রেলিয়ান স্পোর্টস জাদুঘর, যেখানে ক্রিকেট ছাড়াও সকল খেলার গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রহ রয়েছে। অভিষেক টেস্টের স্কোরকার্ড সংরক্ষিত, একশ বছরের পর ইংল্যান্ড আবার খেলেছিল, সেই ম্যাচেও অস্ট্রেলিয়া ৪৫ রানে জয়ী হয়েছিল।

এছাড়া, কিংবদন্তী বোলার শেন ওয়ার্ন-এর বিশেষ স্থান আছে জাদুঘরে। তার কীর্তি নিয়ে ডকুমেন্টারি, দেয়ালে ছবি ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত সংরক্ষিত।

 

news