নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে কিছুটা খরুচে ছিলেন নাহিদ রানা। তবে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে যেন পুরোপুরি ভিন্ন এক রূপে দেখা গেল তাকে। দুর্দান্ত এক স্পেলে তুলে নিলেন ৫ উইকেট, যা তার ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফাইফার।

গত মাসে শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডেতে প্রথমবার ৫ উইকেট নিয়েছিলেন এই ডানহাতি পেসার। মাত্র ১০ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে আজ আবারও সেই কীর্তি গড়লেন তিনি।

নিউজিল্যান্ডকে ১৯৮ রানে আটকে দিলেন একাই

নাহিদ রানার দাপুটে বোলিংয়ে নিউজিল্যান্ডকে ১৯৮ রানে আটকে দেয় বাংলাদেশ। ম্যাচ শেষে তার বোলিং ফিগার ছিল ১০ ওভার, ১ মেডেন, ৩২ রানে ৫ উইকেট। এর মধ্যে ৪৩টি বলই ছিল ডট।

সব মিলিয়ে এক কথায় বলা যায়—এটা ছিল এক স্বপ্নের স্পেল।

খেলার কথাই ছিল না, তবু মাঠে নেমেই বাজিমাত

আজকের ম্যাচে নাহিদ রানার খেলার কথা ছিল না। ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট এবং তীব্র গরমের কারণে তাকে বিশ্রামে রাখার পরিকল্পনা ছিল টিম ম্যানেজমেন্টের।

কিন্তু শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত বদলে মাঠে নামানো হয় তাকে। আর সেই সুযোগটাই যেন কাজে লাগালেন পুরোপুরি। একের পর এক ‘আগুনের বল’ ছুড়ে নিউজিল্যান্ড ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে দেন এই তরুণ পেসার।

ইতিহাসে জায়গা করে নিচ্ছেন নাহিদ রানা

২০২৪ সালের ১১ নভেম্বর শারজায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডেতে অভিষেক হয় নাহিদ রানার। এরপর গত ১৮ মাসে খেলেছেন ১০টি ওয়ানডে।

এর আগেও পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ফাইফার নিয়েছিলেন তিনি। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ১০ ম্যাচে একাধিকবার ৫ উইকেট নেওয়া এখন দ্বিতীয় বোলার তিনি। এর আগে এই কীর্তি ছিল শুধু মুস্তাফিজুর রহমানের, যিনি প্রথম ১০ ম্যাচে তিনবার ফাইফার নিয়েছিলেন।

আগুনের গতি, রেকর্ডের বোলিং

ম্যাচের শুরু থেকেই আগ্রাসী ছিলেন নাহিদ। প্রথম স্পেলে ৫ ওভার বোলিং করে মাত্র ১০ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন তিনি। দ্বিতীয় স্পেলে ৩ ওভারে আরও ১ উইকেট শিকার করেন। পরে আরও দুই উইকেট যোগ করে পূর্ণ করেন পাঁচ উইকেটের কীর্তি।

আরেকটি চমক ছিল তার গতি। এদিন ১৫০.২ কিমি/ঘণ্টা গতিতে বল করেছেন নাহিদ, যা আবারও প্রমাণ করেছে—বাংলাদেশের ইতিহাসে এখন তিনিই সর্বোচ্চ গতির বোলার।

 

news