দীর্ঘ তিন মৌসুম। কত অপেক্ষা। শেষ পর্যন্ত সেই দিন এলো। জার্মানির বুন্দেসলিগায় ফিরল সাত বারের জার্মান চ্যাম্পিয়ন শালকে। গতকাল ফরচুনা ডুসেলডর্ফকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয় স্তরের লিগে শীর্ষস্থান পাকাপোক্ত করে ফের তারা পৌঁছে গেছে স্বপ্নের ঠিকানায়।

লিগে আরও তিন ম্যাচ বাকি থাকলেও ৬৭ পয়েন্ট নিয়ে শালকে টেবিলের দুইয়ে থাকা নিশ্চিত করেছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রথম দুই দল সরাসরি বুন্দেসলিগায় ওঠে।

ম্যাচের ১৩তম মিনিটে একমাত্র গোলটি করেছিলেন দলের অধিনায়ক কেনান কারামান। এই জয়ে তৃতীয় স্থানে থাকা হ্যানোভারের চেয়ে শালকে এগিয়ে গেল ১০ পয়েন্ট। সংক্ষেপে বললে, শালকের উঠে আসা এখন কেবল আনুষ্ঠানিকতা মাত্র।

কারামান ম্যাচ শেষে আবেগ আটকাতে পারেননি। তিনি বললেন, 'এটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। ক্লাব হিসেবে, শহর হিসেবে, আমাদের আশপাশের সবার জন্য অনেক দিন ধরে এই মুহূর্তের অপেক্ষায় ছিলাম। ঘরের মাঠে শেষ ধাপটা পার করতে পেরে আমি খুবই খুশি, কারণ সমর্থকরা এটা প্রাপ্য।'

শুধু গোলই নয়, গ্যালারিতে সমর্থকদের উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মতো। আতশবাজি, গান আর উদযাপনে মেতে ওঠে তারা। যদিও নিরাপত্তার জন্য শত শত স্টুয়ার্ড মাঠে মোতায়েন ছিল এবং সমর্থকদের মাঠে না নামার অনুরোধ জানানো হয়েছিল।

শালকের এই ঘুরে দাঁড়ানোর মূল কারিগর ক্রীড়া পরিচালক ফ্র্যাঙ্ক ব্যোমান। তিনি গত গ্রীষ্মে মিরন মুসলিচকে দায়িত্ব দেন। ৪৩ বছর বয়সী মুসলিচ সংকটে থাকা দলটিকে পুরোপুরি বদলে দেন। এখন শালকে শুধু বুন্দেসলিগাতেই উঠছে না, দ্বিতীয় বিভাগের শিরোপা জয়ের দৌড়েও আছে তারা।

এ ছাড়া জানুয়ারিতে দলে আসা বসনিয়ান ফরোয়ার্ড জেকো দারুণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ৪০ বছর বয়সী এই তারকা ৯ ম্যাচে ৬ গোল করেছিলেন। কিন্তু বিশ্বকাপ প্লে-অফে কাঁধে চোট পেয়ে তিনি মাঠের বাইরে। তবে তাঁর অনুপস্থিতিতে অন্যরা দায়িত্ব নিয়েছে। মালির ফরোয়ার্ড মুসা সিলা শেষ ছয় ম্যাচে ৩টি-সহ মোট ৭ গোল করে দলকে উপহার দিয়েছেন বুন্দেসলিগার টিকিট।

এবার এই নিয়ে পাঁচ বছরে দ্বিতীয়বার দ্বিতীয় বিভাগ থেকে উঠল শালকে। ২০২১ সালে অবনমনের পর পরের মৌসুমেই তারা চ্যাম্পিয়ন হয়ে ফিরেছিল। কিন্তু ২০২৩ সালে আবার অবনমিত হয়। এবার ২০২৬-২৭ মৌসুমে আবারও বুন্দেসলিগায় লড়াই করবে শালকে। সত্যি বলতে কী, এটাই বুঝি চ্যাম্পিয়নের চেনা নিয়ম – বারবার পড়ে, আবার বারবার উঠে দাঁড়ায়!

 

news