প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেব না। তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নই আমাদের লক্ষ্য।

মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, "আমরা কেবল অতীত স্মরণ করছি না, একটি শপথ নিচ্ছি।" তাঁর ভাষ্য, নিপীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠন করতে হবে।

তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মরণ করেন। তাঁর মতে, স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরও বাংলাদেশে সুবিচার ও গণতন্ত্র পূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সাধারণ মানুষ এখনও বৈষম্যের শিকার।

২০২৪ সালের জুলাই মাসকে তিনি ইতিহাসের সংকটময় অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ১৬ বছরের ক্ষোভ তখন ফেটে পড়ে। তরুণরা চাকরি, শিক্ষা ও ন্যায়বিচারের দাবিতে রাস্তায় নেমেছিল।

প্রধান উপদেষ্টা সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থার সমালোচনা করেন। তাঁর মতে, এটি দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির হাতিয়ারে পরিণত হয়েছিল। যোগ্যতা সত্ত্বেও অনেক তরুণ চাকরি পায়নি।

তিনি বলেন, গত দেড় দশকে দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে মাফিয়াতন্ত্র গড়ে উঠেছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে বিচার ব্যবস্থাও এর বাইরে নয়। এতে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ড. ইউনূসের ভাষ্যে, সমালোচকদের দমন করা হয়েছে। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও গুমের ঘটনা উল্লেখ করেন তিনি। এ সময় ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন।

জুলাই মাসের বিক্ষোভে পুলিশ ও দলীয় সন্ত্রাসীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। আহতদের চিকিৎসায় বাধা দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন। এতে অনেকে স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়েছে।

তিনি জুলাইয়ে শহীদ ও আহতদের পরিবারকে সহায়তার তথ্য দেন। এখন পর্যন্ত ৭৭৫টি পরিবারকে ৯৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্টদেরও শিগগিরই সহায়তা দেওয়া হবে।

আহত ১৩,৮০০ জনকে ১৫৩ কোটি টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলে জানান। এর মধ্যে ৭৮ জনকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। এ খাতে ৯৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।

সরকারি হাসপাতালগুলোতে আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা বলেন তিনি। জুলাই যোদ্ধাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেবা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগ তখনই সার্থক হবে যখন বাংলাদেশ সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হবে। এজন্য সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে।

প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, "আমরা একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে পারব।" এজন্য ন্যায়বিচার ও সমতা প্রতিষ্ঠা জরুরি বলে মনে করেন।

তিনি শেষ করেন এই বলে, "জুলাই শহীদদের স্বপ্নই আমাদের পথ দেখাবে।" সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় উন্নত বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান তিনি।

 

news