ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ দেশি-বিদেশি বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব গৃহীত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ১২ মার্চ অধিবেশনের শুরুতেই রাষ্ট্রপতি বা স্পিকারের পক্ষ থেকে সংসদে এই শোকপ্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।
শোকপ্রস্তাব উত্থাপনকালে বলা হয়, ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর দেশ হারিয়েছে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়াকে।
মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী এবং জাতীয় সংসদের সাবেক বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে বাংলাদেশের গণতন্ত্র রক্ষায় তার অবদান চিরস্মরণীয় বলে উল্লেখ করা হয়। সংসদ তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনের নেতাদের প্রতিও শ্রদ্ধা
বাংলাদেশি নেতাদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে সংসদ।
এই তালিকায় রয়েছেন ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।
সাবেক রাষ্ট্রপতি ও ৩১ সংসদ সদস্য
অধিবেশনে সাবেক রাষ্ট্রপতি এবং বিকল্পধারা বাংলাদেশের সাবেক সভাপতি ডা. এ.কিউ.এম. বদরুদ্দোজা চৌধুরীসহ মোট ৩১ জন সাবেক সংসদ সদস্যের মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব আনা হয়।
সংসদে তাদের জীবনবৃত্তান্ত সম্বলিত শোকপ্রস্তাব পাঠ করা হয়।
আরও যাদের স্মরণ করল সংসদ
শোকপ্রস্তাবের তালিকায় থাকা উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন— মতিয়া চৌধুরী (সাবেক সংসদ উপনেতা), মেজর জেনারেল (অব.) কে. এম. সফিউল্লাহ (প্রথম সেনাপ্রধান), আবদুল্লাহ আল নোমান (সাবেক মন্ত্রী), মোস্তফা মোহসীন মন্টু, আব্দুল করিম খন্দকার (বীর মুক্তিযোদ্ধা) এবং রমেশ চন্দ্র সেনসহ মোট ৩১ জন বরেণ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।
এক মিনিট নীরবতা
শোকপ্রস্তাব উত্থাপনের পর প্রয়াতদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।
পরে শোকপ্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, এই শোকপ্রস্তাবের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিবারের কাছে পাঠানো হবে।
