শুটিং সেটে অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তুলেছেন আরেক অভিনেত্রী সামিয়া অথৈ। মঙ্গলবার বিকেলে ফেসবুক লাইভে এসে এ অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা ও বিতর্ক।
লাইভে সামিয়া অথৈ জানান, তিনি বর্তমানে নির্মাতা রাফাত মজুমদার রিংকুর একটি নাটকের শুটিংয়ে মানিকগঞ্জে অবস্থান করছেন। সেখানে তার সহশিল্পী হিসেবে রয়েছেন তানজিন তিশা, শহিদুজ্জামান সেলিম ও মীর রাব্বীসহ আরও অনেকে।
অভিযোগ করে অথৈ বলেন,
“গতকাল আমি মানিকগঞ্জে আসি। এ সময় তানজিন তিশা আপুর জন্য আমি গিফট নিয়ে আসছিলাম। কারণ তিনি আমার সিনিয়র এবং সম্প্রতি একটি ভালো সিনেমা করছেন। কিন্তু আমি তাকে গিফট দিতে গেলে তিনি তা গ্রহণ করেননি। পরে শুটিংয়ের প্রথম সিনেই তিশা আমাকে মারধর করেন। এতে আমার হাতে কিছুটা জখম হয়।”
স্ক্রিপ্টের দৃশ্য নিয়েও বিতর্ক
আজকের ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে অথৈ বলেন, নাটকের চিত্রনাট্য অনুযায়ী একটি দৃশ্যে তাকে তানজিন তিশাকে চড় মারতে হয়।
তিনি বলেন,
“আমি আলতো করে থাপ্পড় দিচ্ছিলাম। কিন্তু এতেই তিনি ক্ষেপে গিয়ে উল্টো আমাকে মারেন। সেটে অনেকেই উপস্থিত ছিলেন, সবাই দেখেছেন। আজ যে আচরণ তিনি করলেন, তা একজন সিনিয়র শিল্পীর জন্য অশোভন।”
অভিযোগ অস্বীকার তানজিন তিশার
তবে এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন তানজিন তিশা। তার দাবি, তিনি কেবল চরিত্রের প্রয়োজনে অভিনয় করেছেন।
তিশা বলেন,
“আমি এতক্ষণ শুটিং করেছিলাম কারণ আমি চাইনি কাজটা ফেঁসে যাক। যে লাইভ করেছে সে কাজটা ফাঁসিয়েই চলে গেছে। আমি পুরোপুরি আমার চরিত্রটা প্লে করছি। আমি এমন একটি চরিত্র করছি, যেটা স্পেশাল চাইল্ড—একজন অটিস্টিক চরিত্র।”
তিনি আরও বলেন,
“চরিত্রের প্রয়োজনে সে মারতে পারে, মানুষকে কামড় দিতে পারে, এমনকি পানিতে চুবিয়ে মারার মতো আচরণও করতে পারে। তাই যতটুকু হয়েছে, সবটাই চরিত্রের প্রয়োজনে।”
কাজ দেখার পরই পরিষ্কার হবে সব
তিশার দাবি, পুরো বিষয়টি বোঝার জন্য দর্শকদের নাটকটি মুক্তি পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
তিনি বলেন,
“আর ১৫ থেকে ২০ দিন পর কাজটি মুক্তি পাবে। তখন দর্শকরা দেখবেন কোন চরিত্রের জন্য কী করা হয়েছে।”
লাইভ উপস্থাপন নিয়ে আপত্তি
লাইভের উপস্থাপন নিয়েও আপত্তি তুলেছেন তিশা। তার মতে, বিষয়টি এমনভাবে তুলে ধরা হয়েছে যেন তিনি ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেছেন।
তিনি বলেন,
“অভিযোগকারী এমনভাবে লাইভ করেছেন যেন আমি তাকে ব্যক্তিগতভাবে অ্যাটাক করেছি। কিন্তু যতটুকু করেছি, সবই স্ক্রিপ্টের মধ্যে থেকে। ইম্প্রোভাইজ হয়, তবে সেটা চরিত্রের ভেতর থেকেই করতে হয়।”
শুটিংয়ের পরিবেশ নিয়েও মন্তব্য
আরেকটি প্রসঙ্গ তুলে তিশা বলেন, তিনি যে চরিত্রটি করছেন সেখানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার সুযোগ নেই।
তার ভাষায়,
“আমি সারাদিন গোবরের পাশে বসে আছি, নদীর মধ্যে বসে আছি, মাটি-বালুর মধ্যে বসে আছি। আমাকে শিকল দিয়ে বেঁধেও রাখা হয়েছে। সেখানে একজন ফিমেল আর্টিস্ট হয়ে আরেকজন ফিমেল আর্টিস্টকে বলা—‘এক ঘণ্টা ওয়াশরুমে থাকেন’—এটা আমার কাছে খুবই দুঃখজনক লেগেছে।”
সবশেষে তানজিন তিশা বলেন, একজন অভিনেত্রী হিসেবে সহশিল্পীর বোঝা উচিত চরিত্রের প্রয়োজনে কী ধরনের অভিনয় করতে হয়।
“আমাকে যে কথাগুলো বলা হয়েছে, সেগুলো পুরোপুরি ব্যক্তিগত আক্রমণ। আর কিছুই না। কাজটা মানুষ দেখলে বিষয়টা আরও পরিষ্কার হবে,” যোগ করেন তিনি।
