রাজনীতির নতুন যাত্রা শুরু করলেও নিজের লক্ষ্য ও পরিকল্পনা নিয়ে একদম স্পষ্ট অবস্থানে রয়েছেন ২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজপথে সক্রিয় থাকা রুকাইয়া জাহান চমক। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে কুষ্টিয়া থেকে বিএনপির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতির মাঠে নাম লিখিয়েছেন।

শুক্রবার বিকেলে বিএনপির মনোনয়ন বোর্ডের সামনে সাক্ষাৎকার শেষে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও কুষ্টিয়াকে ঘিরে বড় ধরনের পরিকল্পনার কথা গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন তিনি।

‘আমাকে বলা হয়েছে যে আপনি কি বিএনপিকে সার্ভ করতে চান কি না। আমি বলেছি হ্যাঁ, আমি বিএনপিকে সার্ভ করতে চাই। তবে আমার প্রথম ভিশন হচ্ছে দেশকে সার্ভ করা। বিএনপি যদি আমাকে সেই সুযোগ ও প্ল্যাটফর্ম দেয় তাহলে আমি কৃতজ্ঞ থাকব।’

তিনি জানান, রাজনীতিতে তার মূল উদ্দেশ্য ব্যক্তিগত স্বার্থ নয়, বরং দেশের মানুষের জন্য কিছু করা।

কুষ্টিয়াকে ‘কালচারাল হাব’ বানানোর স্বপ্ন

নিজের এলাকা কুষ্টিয়াকে তিনি একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বা কালচারাল হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চান বলে জানান চমক। বিশেষ করে লালন মেলাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার পরিকল্পনার কথাও শোনান তিনি।

চমক বলেন,
‘কুষ্টিয়া একটি কালচারাল হাব, যেখানে লালন মেলা হয় এবং মানুষ সাম্যের গান গায়। আমি গ্লোবালি লালন মেলাকে এমনভাবে রিপ্রেজেন্ট করতে চাই যেন পৃথিবীর মানুষ অপেক্ষা করবে কবে লালন মেলা হবে।’


শুধু সংস্কৃতি নয়, কুষ্টিয়ার ঐতিহ্য ও অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়েও নিজের ভাবনার কথা জানান তিনি। চমকের ভাষায়,
‘কুষ্টিয়ার বিভিন্ন সুন্দর হেরিটেজ জায়গাগুলোকে আমি আরও রিপ্রেজেন্ট করতে চাই এবং কালচারাল হাবটাকে আরও বেশি পেট্রোনাইজ করতে চাই। আমার মনে হয় পটেনশিয়াল এবং এক্সিকিউশনাল জায়গাতে একটা অ্যালাইনমেন্ট দরকার। কুষ্টিয়াতে কাঠামোগতভাবে অনেক পরিবর্তন দরকার, সেগুলোতে আমি কাজ করতে চাই।’

কেন রাজনীতিতে আসা?

নিজের রাজনৈতিক যাত্রার কারণ ব্যাখ্যা করে চমক বলেন,
‘আমি নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চাই এবং জীবনকে দেশের মানুষের জন্য মিনিংফুলি কন্ট্রিবিউট করতে চাই। এটি আমার জন্য একটা ভালো প্ল্যাটফর্ম।’

সব মিলিয়ে রাজনীতিতে নতুন হলেও বড় স্বপ্ন নিয়ে এগোচ্ছেন রুকাইয়া জাহান চমক—বিশেষ করে কুষ্টিয়াকে আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক মানচিত্রে জায়গা করে দেওয়ার লক্ষ্যেই তার এই নতুন যাত্রা।

 

news