মোঃ মিজানুর রহমান ও আল মাসুম: স্ক্রিনে যে দৃশ্যটি দেখছেন সেটি কি ১৯৭৭ সালের না কি ২০২৬ সালের? কোদাল হাতে প্যান্টে কাদা মেখে দাঁড়িয়ে থাকা এই মানুষটি কি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, না কি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান? দিনাজপুরের সাহাপাড়ার মাটিতে আজ ইতিহাস কথা বলছে! প্রায় পাঁচ দশক পর সেই একই জায়গায়, একই ভঙ্গিতে, ঠিক বাবার মতোই বিপ্লবের সূচনা করলেন ছেলে। আজ বলবো বাংলাদেশের রাজনীতির সেই মাহেন্দ্রক্ষণ নিয়ে, যা দেখে বিরোধীদের ঘুম হারাম হয়ে গেছে!

বাংলাদেশের মানচিত্র বদলে দিতে শহীদ জিয়া যে কোদাল তুলে নিয়েছিলেন, সেই কোদাল আজ তার যোগ্য উত্তরসূরি তারেক রহমানের হাতে। দিনাজপুরের সেই ঐতিহাসিক সাহাপাড়া, যেখান থেকে একদিন শুরু হয়েছিল খাল খনন বিপ্লব, সেখানেই আজ রচিত হলো নতুন ইতিহাস। জনমানুষের নেতা তারেক রহমান আজ প্রমাণ করলেন, তিনি কেবল ক্ষমতার উত্তরাধিকারী নন, বরং তিনি শহীদ জিয়ার আদর্শ ও মেহনতি মানুষের প্রকৃত বন্ধু।

বিএনপির মিডিয়া সেলে প্রকাশিত সেই ২৯ সেকেন্ডের ভিডিওটি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ে। উপরে ১৯৭৭ সালের সাদা-কালো ফ্রেমে প্রিয় নেতা জিয়াউর রহমান, আর নিচে ২০২৬ সালের রঙিন ফ্রেমে আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পোশাক থেকে শুরু করে মাটি কাটার ভঙ্গি—সবকিছুতেই যেন এক অলৌকিক মিল! বাবার সেই টি-শার্ট, জিন্স আর মাথায় ক্যাপ; ঠিক যেন এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।

মঞ্চের সোফায় যখন প্রধানমন্ত্রী বসলেন, তখন তার প্যান্টে লেগে থাকা কাদার ছোপগুলো যেন হীরা-জহরতকেও হার মানাচ্ছিল। ঠিক ৪০ বছর আগে জিয়াউর রহমানও এভাবেই খালের পাড়ে কাদামাখা অবস্থায় বসেছিলেন। এই কাদা কোনো ময়লা নয়, এটি হলো এদেশের মাটির প্রতি ভালোবাসা এবং কৃষকের সাথে একাত্ম হওয়ার পবিত্র চিহ্ন। তারেক রহমান আজ দেখিয়ে দিলেন, বিলাসিতা নয়, জনসেবাই তার মূল লক্ষ্য।

সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন একটাই কথা—'শহীদ জিয়ার পদচিহ্নেই হাঁটছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান'। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও বলছেন, তারেক রহমান খুব বুঝেশুনেই তার বাবার সেই সততা আর অনাড়ম্বর জীবনকে নিজের মধ্যে ধারণ করেছেন। এতে অবশ্য এক শ্রেণির ‘সুশীল’ আর বিরোধীদের গা জ্বালা করছে। তারা এটাকে বলছেন প্রতীকী রাজনীতি, কিন্তু আমজনতা বলছে, এটাই তো আসল দেশের মাটির মানুষের নেতা।

বিগত সরকারের আমলে গত ২৫ বছরে হাজার হাজার কিলোমিটার খাল খননের গল্প শোনানো হলেও বাস্তবে সচল ছিল খুব সামান্যই। কিন্তু তারেক রহমানের সরকার ক্ষমতায় এসেই ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও নদী পুনরুদ্ধারের যে মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, তা বাংলাদেশের কৃষি ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনবে। এটি কোনো ফাঁকা বুলি নয়, বরং শহীদ জিয়ার শুরু করা সেই অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করা।

নির্বাচনের আগেই বিএনপি কথা দিয়েছিল, জনগণের স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে দেশ গড়া হবে। আর ক্ষমতায় আসার পর ১৬ই মার্চ সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী। খরা মৌসুমে যখন কৃষকরা পানির জন্য হাহাকার করে, তখন এই খালগুলোই হবে তাদের প্রাণের উৎস। তারেক রহমান জানেন, এদেশের উন্নয়ন মানেই কৃষকের উন্নয়ন, আর কৃষক বাঁচলে তবেই না দেশ বাঁচবে সোনার বাংলাদেশ।

আমাদের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানও পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, সরকার এখন শহীদ জিয়ার প্রবর্তিত পররাষ্ট্রনীতিতেই ফিরে যাচ্ছে। অর্থাৎ, দেশ এখন সঠিক ট্র্যাকে। জিয়াউর রহমানের সেই সততা আর কঠোর পরিশ্রমের দৃষ্টান্ত যদি তারেক রহমান পুরোপুরি রপ্ত করতে পারেন, তবে এই বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা ঠেকানোর সাধ্য কারও নেই। ষড়যন্ত্রকারীরা যতই হাসাহাসি করুক, দেশের মানুষ কিন্তু তাদের উত্তর দিয়ে দিয়েছে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে গত পাঁচ দশক ধরে জিয়া পরিবারই হলো আসল প্রাণশক্তি। ১৭ বছর রাজপথের লড়াই-সংগ্রাম শেষে যখন দল ক্ষমতায় ফিরল, তখন তারেক রহমানের এই ভিশনারি নেতৃত্বই ভরসা জোগাচ্ছে। বাবার সেই কোদাল আজ ছেলের হাতে এক শক্তিশালী হাতিয়ার, যা দিয়ে ভরাট হওয়া খালই নয়, বরং দেশের ভাগ্যরেখাও নতুন করে খনন করছেন আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমান।

শেষে এটাই বলবো, যারা ভাবছেন এগুলো স্রেফ লোক দেখানো, তারা আসলে বাংলাদেশের মানুষের পালস বোঝেন না। তারেক রহমান কেবল জিয়ার ছায়া হয়ে থাকতে আসেননি, তিনি এসেছেন জিয়ার অসমাপ্ত বিপ্লবকে সফল করতে। দিনাজপুরের সেই কাদা মাটি আজ সাক্ষ্য দিচ্ছে, বাংলাদেশ সঠিক হাতেই আছে। 

news