এক দশকের তিক্ততার পর সিরিয়া ও তুরস্কে মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
মিসরের শীর্ষ কুটনীতিক সামেহ শুকরি আজ সোমবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সিরিয়া ও তুরস্ক সফর করছেন। এক দশকেরও বেশি সময় আগে দু’দেশের সঙ্গে মিসরের সম্পর্কের তিক্ততা সৃষ্টির পর দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ প্রথম দেশ দু’টি সফরে যাচ্ছেন। আল-আরাবিয়া
মিসরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তুরস্ক ও সিরিয়া এবং তাদের ভ্রাতৃপ্রতীম জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ ও সমবেদনা জানানোর জন্য তিনি এ সফরে যাচ্ছেন। গত ৬ ফেব্রুয়ারির ভয়াবহ ভূমিকম্পে তুরস্ক ও সিরিয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও অর্ধলাখেরও বেশি মানুষ নিহত হয়। ৭.৮ মাত্রার ওই ভূমিকম্প ছিল শতবর্ষের মধ্যে সবচেয়ে বিধ্বংসি। এতে লাখ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী উভয় দেশকে সহায়তা প্রদানের মিসরের আগ্রহের কথা জানাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, তার দেশ ও জনগণ দুদেশের ভাইদের পাশে দাঁড়াতে প্রস্তত রয়েছে।
শুকরি সিরিয়া সফরকালে দামেশকে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। ২০১১ সালে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। এতে লাখ লাখ লোক নিহত হয়েছে এবং লাখ লাখ লোক গৃহহীন হয়ে পড়ে।
গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভ সহিংসপন্থায় দমনের পর বাশার সরকার এক ঘরে হয়ে পড়ে অঞ্চলটিতে। আরবলীগ সিরিয়ার সদস্যপদ স্থগিত করে। অনেক দেশ সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং রাষ্ট্রদূতদের দেশে ফিরিয়ে নেয়। জনগণের বিরুদ্ধে নৃশংস নির্যাতনের কারণে সিরিয়া সরকার আন্তর্জাতিকভাবেও এক ঘরে হয়ে পড়ে। সিরিয়ার ওপর আরোপ করা হয় নানা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা।
কিন্ত বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা সিরিয়াকে লাখ লাখ ডলার সহায়তা প্রদান করছে। ১২ বছরের গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত সিরিয়ায় ভূমিকম্পে প্রায় ৬,০০০ নিহত হয়। এ দুর্যোগকে কাজে লাগিয়ে সিরিয়া সরকার কূটনৈতিক উদ্যোগ বাড়িয়ে সরকার তার বৈধতা লাভের চেষ্টা করছে। ৭ ফেব্রুয়ারি মিশরের প্রেসিডেন্ট আব্দুল ফাত্তাহ আল-সিসি বাশারকে ফোন করে সমবেদনা জানান। এটি ছিল দেশ দু’টির মধ্যকার প্রথম কোন যোগাযোগের ঘটনা।
২০১৩ সালে সিসির নেতৃত্বে মিশরের সেনাবাহিনী দেশটির ইতিহাসে প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মুসলিম ব্রাদারহুডের মুহাম্মাদ মুরসিকে উৎখাতের পর আংকারার সঙ্গে কায়রোর সম্পর্কে তিক্ততার সৃষ্টি হয়। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন মুরসি।
মিসর সরকার মুসলিম ব্রাদারহুডকে নিষিদ্ধ ও সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষনা করার পর ব্রাদারহুডের অনেক সদস্য তুরস্কে এসে আশ্রয় নেয়। সমুদ্র সীমা ও সম্পদ নিয়েও দুদেশের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। এ ছাড়া লিবিয়ার সংঘাতে দুদেশ পরস্পরের বিপক্ষে অবস্থান করছে। তবে ২০২১ সালের দিকে এসে দুদেশ পরস্পরের বিরুদ্ধে স্বর নরম করে। তুরস্ক মিসর, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক ও নতুন করে গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। ৭ ফেব্রুয়ারি সিসি এরদোগানকে ফোন করে ভূমিকম্পে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সংহতি ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। এ সময় ত্রাণ সহায়তার প্রস্তাব দেন। এটি ছিল দু’নেতার মধ্যে প্রথম সরাসরি যোগাযোগ।
এনবিএস/ওডে/সি