মিয়ানমারের রাজনৈতিক সংকটে বিঘ্নিত হচ্ছে আঞ্চলিক নিরাপত্তা : আনোয়ার ইব্রাহীম
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহীম বলেছেন, মিয়ানমারের চলমান রাজনৈতিক সংকট আঞ্চলিক নিরাপত্তা, কল্যাণ ও অগ্রগতিকে ব্যাহত করছে। তিনি বলেন, দেশটিতে শান্তি প্রতিষ্ঠায় দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সংস্থাকে (আসিয়ান) নতুন উপায়ে কাজ করতে মিয়ানমারে সামরিক শাসকদেরকে অবশ্যই রাজী করাতে হবে।
গত বুধবার ম্যানিলায় ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রের সঙ্গে বৈঠকের সময় আনোয়ার বলেন, তিনি তার প্রতিপক্ষের ৫ দফা শান্তি পরিকল্পনার বিষয় পুণরুল্লেখকে যথার্থ বলে স্বাগত জানাচ্ছেন। তিনি বলেন, আসিয়ান ও মিয়ানমার সরকারের মধ্যে সম্মত এ শান্তি পরিকল্পনা অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে।
আনোয়ার বলেন, “আসিয়ানের সাথে মিয়ানমার জান্তার কাজ করা নতুন ক্ষেত্র বের করার পরামর্শ আমি দিতে চাই যাতে চলমান সমস্যাগুলো নিরসন করা যায়। এটি কোন আভ্যন্তরীন বিষয় নয় কারণ মিয়ানমার সংকট আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করছে এবং কল্যান ও অগ্রগতি ব্যাহত করছে।
২০২১ সালে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার পর দেশটিতে সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। মানবাধিকার গ্রুপগুলো ও জাতিসংঘ অভিযোগ করে যে, বিরোধীদের দমনের অংশ হিসেবে সামরিক বাহিনী দেশটি নৃশংসতা চালাচ্ছে। সামরিক জান্তা বিরোধীদেরকে “সন্ত্রাসবাদী” বলে আখ্যায়িত করে দাবি করছে যে, তারা দেশকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে।
আসিয়ান দীর্ঘকাল ধরে সদস্য দেশগুলোর সার্বভৌম কর্মকান্ডের থেকে দূরে থেকেছে। কিন্তু দেশটির জান্তার কাজের ব্যাপারে আসিয়ানে হতাশা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সামরিক অভ্যুত্থানের অল্প পরেই জেনারেলরা আসিয়ানের সাথে ওই পাঁচ দফা শান্তি পরিকল্পনায় সম্মত হয়। মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত ১০ সদস্যের জোট আসিয়ানের উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে মিয়ানমারের জেনারেলদের উপস্থিতির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
মালয়েশিয়া মিয়ানমারের সামরিক জান্তার কঠোর সমালোচক দেশ। তারা সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে আরো কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার পক্ষপাতি। এ পদক্ষেপের ব্যাপারে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় মিয়ানমারের জেনারেলরা অভিযোগ করে যে, আসিয়ান সদস্য দেশের ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করছে।
এনবিএস/ওডে/সি