আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ব্যবহারে সম্মতির প্রয়োজন নেই: হোয়াইট হাউস
বুধবার হোয়াইট হাউস বলছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার এবং পরবর্তীতে তালিবানের ক্ষমতায় উত্থানের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দেশটিতে সামরিক শক্তি ব্যবহার করার জন্য পূর্ববর্তী আফগান সরকারের সম্মতির উপর আর নির্ভর করবে না।
হোয়াইট হাউস মার্কিন সামরিক শক্তি ব্যবহারের জন্য আইনি ও নীতি কাঠামোর একটি প্রতিবেদনে বলেছে, আন্তর্জাতিক আইনের বিষয় হিসাবে, মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের আগে হোস্ট জাতির সম্মতি আফগানিস্তানে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের জন্য একটি ভিত্তি প্রদান করেছে। তাই আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের সাথে সম্পর্কিত পরিবর্তিত পরিস্থিতির আলোকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পূর্বে দেওয়া সম্মতির উপর আর নির্ভর করতে চায় না।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, আফগানিস্তানে মার্কিন সেনা শক্তি ব্যবহারে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের আত্মরক্ষায় প্রয়োজনীয় এবং আনুপাতিক শক্তি ব্যবহার করার অন্তর্নিহিত অধিকার রয়েছে। আফগানিস্তান তার ভূখণ্ড থেকে উদ্ভূত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির মোকাবিলা করতে অনিচ্ছুক বা অক্ষম কি না সে বিষয়টিও বিবেচনা করবে ওয়াশিংটন। তাছাড়া আফগানিস্তানে মার্কিন সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের জন্য অভ্যন্তরীণ আইনের ভিত্তিতে কোনো পরিবর্তন করা হয়নি।
আফগানিস্তান থেকে মার্কিন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের পর, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, প্রয়োজনে আফগানিস্তানে সন্ত্রাসী হুমকির বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে।
বাইডেন প্রশাসন ২০২১ সালের ৩১শে আগস্ট, আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নেয়। এরপর মার্কিন-সমর্থিত সরকার পতন ঘটে, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আশরাফ ঘানি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলার কয়েক সপ্তাহ পরে, ২০০১ সালের অক্টোবরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে আক্রমণ শুরু করার ২০ বছর পরে জটিল এবং অগোছালো মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয় ওয়াশিংটন। সেই সময়ে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে প্রবেশের জন্য ওসামা বিন লাদেন ৯/১১ হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে অভিযোগ আনে। তবে তালিবান বরাবরই তা অস্বীকার করে এসেছে। আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের সন্ত্রাস দমন অভিযানে হাজার হাজার মার্কিন সেনা ছাড়াও আফগান সেনা, পুলিশ এবং বেসামরিক ব্যক্তি মারা যায় যাদের সংখ্যা লক্ষাধিক।
এনবিএস/ওডে/সি