পঞ্চাশ বছরে রেকর্ড মূলস্ফীতির কবলে পাকিস্তান

বুধবার দেশটির পরিসংখ্যান ব্যুরো জানিয়েছে, ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) বা মূল্যস্ফীতি এক লাফে ৩১.৫ শতাংশের কোটায় পৌছে গেছে। এতে করে  দেশটিতে খাবার, পানীয় এবং পরিবহন ব্যয় ৪৫ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। আল 

১৯৭৩-৭৪ অর্থ বছরে দেশটিতে গড় মুল্যস্ফীতি ছিল ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ। কিন্ত এবারের মত পরিস্থিতির মুখোমুখি দেশটির জনগণকে গত পাঁচ দশকে পড়তে হয়নি বলে দেশটির ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিকস রয়টার্স কে জানিয়েছে।  

সংস্থাটি  জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারির তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে ৪ দশমিক ৩ শতাংশ। আর ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে চলতি বছরেরে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ মূল্যস্ফীতি ২৭ দশমিক ৬ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে করে গত বছরের তুলনায় পানীয় ও তামাকজাত পণ্যের মূল্য বেড়েছে প্রায় ৪৭ দশমিক ৬ শতাংশ। সিগারেটের ওপর কর বৃদ্ধির কারণেই মূলত এমনটি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। অন্যদিকে খাবার ও নন-অ্যালকোহলিক পানীয়র মূল্য গত এক বছরে ৪৫ শতাংশ বেড়েছে।

গত মাসে পাকিস্তান সরকার একটি সম্পূরক বিল পাশ করে। নতুন এ আইনে পণ্যের ওপর আরোপিত কর ১৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়। মূলত চলমান অর্থ বছরে আরও ১৭০ বিলিয়ন রুপি (৬৩৯ মিলিয়ন ডলার) কর আদায়ের লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে শেহবাজ শরীফের নেতৃত্বাধীন জোট সরকার জানিয়েছে। এটি জুলাইয়ে শেষ হবে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।  

এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে ৬৫০ কোটি ডলার ঋণের প্রথম কিস্তির ১০০ কোটি ডলার পাওয়ার লক্ষ্যেই জ্বালানিসহ সব কিছুর মূল্য বাড়ানোর পাশাপাশি এসব কর আরোপের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। 

গত কয়েক মাস ধরে ডলারের বিপরীতে পাকিস্তানের রুপির যে দরপতন চলছে সেটির ধারাবাহিকতায়  বুধবার পর্যন্ত ১ ডলারের মূল্যমান দাঁড়িয়েছে ২৬৬.১১ রুপি। ফলে ডলারের বিপরীতে রুপির মূল্য কমেছে ১ দশমিক ৭ শতাংশ। 

দেশটির স্থানীয় একটি ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের প্রধান গবেষক ফাহাদ রউফ বলেন, এটি কেবল শুরু, মার্চে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 
দেশটির শহর ও গ্রামাঞ্চলে বছর জুড়েই এ মূল্যস্ফীতি ১৭.১ শতাংশ থেকে বেড়ে ২১.৫ শতাংশ হওয়ায় দ্রব্যমূল্যের দাম ক্রমাগতই মানুষের নাগালের বাইরে যেতে শুরু করে। 

এনবিএস/ওডে/সি 

Walton Ads