তেহরানস্থ আজারবাইজান দূতাবাসে হামলার ঘটনায় হঠাতই সুর পাল্টালো বাকু

তেহরানে অবস্থিত আজারবাইজানের দূতাবাসে সম্প্রতি গোলাগুলির ঘটনার পর ইরান এ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে সহযোগিতার কথা জানিয়েছিল। প্রথমদিকে সন্দেহজনক কারণে আজারবাইজানের কর্মকর্তারা ওই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে ইরানের বিচারবিভাগ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে কোনো রকম সহযোগিতা করতে অনীহা দেখিয়ে আসছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই বাকু কর্তৃপক্ষ তেহরানে তাদের দূতাবাসে হামলার ঘটনা তদন্তে সহযোগিতা করতে সম্মতি জানিয়েছে।

আজারবাইজানের বিচারবিভাগে সরকার পক্ষের প্রধান কৌশলী কামরান আলিয়েভ ওই ঘটনার তদন্তে গত এক মাস ধরে তাদের অনীহা বা অসহযোগিতার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেছেন, প্রয়োজনে তেহরানে আজারবাইজানের দূতাবাসে হামলার ঘটনা তদন্তের জন্য বাকু সরকারের বিচারবিভাগ ও নিরাপত্তা বিভাগের বিশেষ তদন্ত টিম তেহরান সফরে যাবে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আজারবাইজানের বিচারবিভাগে সরকার পক্ষের প্রধান কৌশলী তেহরানে তাদের দূতাবাসে হামলার ঘটনা তদন্তে ইরানের বিচারবিভাগকে যদিও সহযোগিতা করতে সম্মতির কথা জানিয়েছেন কিন্তু দেশটির কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যমূলক ও  অপ্রত্যাশিত কথাবার্তা পরিস্থিতিকে ঘোলাটে করতে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা করছেন। দেশটির একজন পদস্থ কর্মকর্তা রিয়েল টিভিকে দেয়া সাক্ষাতকারে বলেছেন, তাদের নিরাপত্তা সংস্থা সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগের ভিত্তিতে ওই ঘটনার তদন্ত কাজ চালাচ্ছে। তিনি বলেছেন, আজারবাইজানের দূতাবাসে সশস্ত্র হামলার ঘটনা প্রমাণ করে এতে একজন মাত্র ব্যক্তি জড়িত ছিল না এবং এটা ছিল সুপরিকল্পিত। তাই ওই হামলার সাথে জড়িত ও নির্দেশদাতা সবাইকে বিচারের আওতায় আনা হবে। তিনি তার বক্তব্যে এ হামলার পেছনে ইরানকে জড়িয়ে ইঙ্গিত-পূর্ণ কথা বলেছেন।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ‌আজারবাইজানের কর্মকর্তারা এমন সময় তেহরানের বিরুদ্ধে অভিযোগের সুরে কথা বলছেন যখন এলহাম আলিয়েভ সরকার দূতাবাসে হামলার ঘটনায় তাদের সন্দেহ বা দাবির স্বপক্ষে কোনো তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন তো করেনি বরং এটিকে তারা আন্তর্জাতিকীকরণ করার চেষ্টা করে আসছে যাতে ইরানের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা যায়।

কিন্তু দুঃখজনকভাবে এরপরও আজারবাইজানের এলহাম আলিয়েভ সরকার তেহরানে তাদের দূতাবাসের কার্যক্রম স্থগিত রেখেছে এবং বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে টেনে নিয়ে ইরানকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করে। কিন্তু আজারবাইজান দূতাবাসের পক্ষ থেকে হামলার ছবি ও ভিডিও প্রকাশিত হওয়ার পর ইরানের ব্যাপারে ওই দেশটির এক শ্রেণীর কর্মকর্তার নির্লজ্জ আচরণের বিষয়টি সবার সামনে প্রকাশ হয়ে পড়ে। এমনকি খোদ এলহাম আলিয়েভ সরকারের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তারাও বিস্মিত হন। এরপরই তারা ইরানের ব্যাপারে সন্দেহ থেকে সরে আসতে বাধ্য হন
খবর পার্সটুডে/এনবিএস/২০২৩/একে

Walton Ads