দাম বাড়ছে পাকিস্তানি রুপির

রেকর্ড দাম পতনের পর পাকিস্তানের মুদ্রা রুপি শেষ পর্যন্ত খানিকটা শক্তি অর্জন করেছে। গত বৃহস্পতিবার বড় পতনের পর রুপির দাম মুদ্রাটির ইতিহাসে সবচেয়ে নিচে নেমে যায়। তবে গতকাল শুক্রবার মার্কিন ডলারের বিপরীতে রুপির দাম দুই শতাংশের বেশি বেড়েছে। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকনীতি সুদহার ৩০০ বেসিস পয়েন্ট বাড়ানোর পর গত বৃহস্পতিবার রুপির দাম কমে সবচেয়ে নিচে নেমে যায়।

ওই দিন পাকিস্তানি মুদ্রার দাম ৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ কমে ডলারপ্রতি দাঁড়ায় ২৮৫ দমশিক শূন্য ৯ রুপি। বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, এর আগে রুপির দাম কখনো এতটা নিচে নামেনি। তবে এক দিন পর গতকাল রুপি তার হারানো শক্তির খানিকটা ফিরে পায় এবং দিন শেষে ডলারের বিপরীতে মুদ্রাটির দাম দাঁড়ায় ২৭৮ দশমিক ৪৬ রুপি।

উল্লেখ্য, পাকিস্তানের অর্থনীতি এখন বড় ধরনের সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশটিতে একদিকে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে, অন্যদিকে সুদের হারও বাড়ানো হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সর্বশেষ বৃহস্পতিবার নীতি সুদহার বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করেছে। লাকসন ইনভেস্টমেন্টসের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা মুস্তাফা পাশা বলছেন, ‘রুপির দাম সম্ভবত বেড়েছে গভর্নরের ওই বক্তব্যের পর যেখানে তিনি বলেছেন যে আইএমএফ সুদের হার বাড়িয়ে একেবারে শেষ সীমানায় নিয়ে যেতে বলেনি।’ করাচিভিত্তিক ব্রোকারেজ কোম্পানি টপলাইন সিকিউরিটিজের মোহাম্মদ সোহাইল বলেন, ‘আইএমএফে ঋণ পেতে দেরি হওয়ার কারণে মুদ্রা বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।’ পাকিস্তানের জন্য আইএমএফের ঋণ পাওয়া প্রয়োজন।

এটি পেলে দেশটির জন্য আরও বেশি দ্বিপক্ষীয় এবং বহুপাক্ষিক ঋণ পাওয়ার দরজা খুলে যাবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে যে পরিমাণ রিজার্ভ রয়েছে, তা দিয়ে দেশটির তিন সপ্তাহের আমদানি খরচ মেটানো যাবে। পাকিস্তান যাতে বাজারভিত্তিক মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থা চালু করে, সেটাই আইএমএফ চাইছে। আর আইএমএফ যদি গত বছর থেকে আটকে থাকা ঋণের কিস্তি ছাড়ের অনুমোদন দেয়, তাহলে পাকিস্তান ১০০ কোটি ডলারের বেশি হাতে পাবে।

দেশটির অর্থমন্ত্রী ইসহাক দার টুইটারে করা এক মন্তব্যে বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে আইএমএফের আলোচনা প্রায় শেষ হতে চলেছে। আমরা আশা করছি আইএমএফের সঙ্গে কর্মকর্তা পর্যায়ের চুক্তিটি আগামী সপ্তাহের মধ্যে স্বাক্ষর করতে পারব।’ পাকিস্তানের রাজস্ব ঘাটতির আকার বেশ বড়। আগামী জুনে বাজেট পেশের আগেই যাতে বাজেট ঘাটতি কমিয়ে আনা যায়, আইএমএফ চায় পাকিস্তান সেই লক্ষ্যে কাজ করুক।

দেশটি এরই মধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে, জ্বালানি তেল এবং বিদ্যুতের দাম বাড়ানো, রপ্তানি এবং বিদ্যুৎ খাত থেকে ভর্তুকি প্রত্যাহার এবং একটি সম্পূরক বাজেটের মাধ্যমে নতুন করারোপ করে আরও বেশি রাজস্ব আদায়ের ব্যবস্থা নেওয়া। তবে রাজস্ব আদায় আরও বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়ার ফলে মূল্যস্ফীতির হার আরও বেড়ে যাবে বলে বিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন। গত ফেব্রুয়ারি মাসে আগের বছরের তুলনায় মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ।

এনবিএস/ওডে/সি

Walton Ads