জাপানের জোরপূর্বক শ্রম নিয়ে বিরোধ নিস্পত্তির পরিকল্পনা ঘোষণা সিউলের

দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার জাপানের জোরপূর্বক শ্রমের ক্ষতিপূরণ নিয়ে জাপানের সঙ্গে দীর্ঘ দিনের বিরোধ নিস্পত্তি করার একটি পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এসব কোরীয় শ্রমিককে জাপানী কলকারখানা ও খনিতে জোরপূর্বক কাজ করানো হয়েছে।

সোমবার এ পরিকল্পনা ঘোষণার পরপরই দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রতিবাদ-বিক্ষোভ হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র একে “ঐতিহাসিক” বলে স্বাগত জানিয়েছে। উত্তর কোরিয়া পারমানবিক ও ক্ষেপনাস্ত্র কর্মসূচী জোরদার করার প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইয়ুন সুক-ইয়োল জাপানের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পার্ক জিন বলেছেন যে, সাবেক শ্রমিকদের যারা বেঁচে আছেন তাদের বয়স এখন ৯০এর ওপরে। তাদেরকে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে বেসরকারী খাতের কোম্পানিগুলোর অর্থে গঠিত ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে। যেসব জাপানি কোম্পানি জোরপূর্বক শ্রম দিতে বাধ্য করেছিল সেসব কোম্পানিকে তা দিতে হবে না।

দক্ষিণ কোরিয়া সরকার গত জানুয়ারি মাসে এ পরিকল্পনার কথা প্রথম উত্থাপন করে। ঘটনার শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারগুরো এর প্রতিবাদ জানায় কারণ জাপানি কোম্পানিগুলোকে ক্ষতিপূরণ দানের বাইরে রাখা হয়েছে। অথচ নিপ্পন স্টীল ও মিৎসুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিসহ জাপানি কোম্পানিগুলোকে ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়ার আদালত।

পার্ক এ পরিকল্পনা ঘোষণা করার পর অনেক লোক বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। কয়েকজন শিকার ব্যক্তির আইনজীবী লিম জায়ে-সুং বলেন, এটি জাপানের পূর্ণ বিজয। জোরপূর্বক শ্রমের ঘটনায় টোকিওকে একটি ইয়েনও ব্যয় করতে হচ্ছে না।

কোরিয়ার প্রধান বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি এ পরিকল্পনাকে “বশ্য কূটনীতি”বলে এর নিন্দা করেছে। দলটির মুখপাত্র হো-ইয়ং বলেন, এটি একটি লজ্জার দিন। জোরপূর্বক শ্রম ও জাপানি সেনাদের পতিতালয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার নারীদের দাসি হিসেবে ব্যবহারের বিষয় বহুদশক ধরে সিউল ও টোকিওর মধ্যকার সম্পর্কে তিক্ততার কারণ হয়ে ছিল। জাপান ১৯১০ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত কোরীয় উপদ্বীপ দখল করে রেখেছিল।

এনবিএস/ওডে/সি

Walton Ads