প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এরদোয়ানের প্রতিদ্বন্দ্বী করবেন তুরস্কের গান্ধী
তুরস্কের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে চ্যালেঞ্জ জানাতে দেশটির বিরোধীরা অবশেষে কামাল কিলিচদারোগু প্রার্থী হিসেবে ঠিক করেছেন। তিনি ‘তুরস্কের গান্ধী’ নামে পরিচিত।
আগামী ১৪ মে তুরস্কে প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচন সামনে রেখে দেশটির ছয়টি বিরোধী দল জোট গঠন করে। কিন্তু এই জোট বর্তমান প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের বিপক্ষে লড়ার জন্য একক প্রার্থী ঠিক করতে পারছিল না। এ নিয়ে তীব্র তর্কবিতর্কের পর গত সোমবার ৬ দলীয় বিরোধী জোটের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে কিলিচদারোগুর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। কিলিচদারোগু তুরস্কের মধ্য-বামপন্থী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টির (সিএইচপি) চেয়ারম্যান।
সিএইচপি প্রতিষ্ঠা করেন আধুনিক তুরস্কের রূপকার মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক। ২০১০ সাল থেকে সিএইচপির নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন কিলিচদারোগু। তিনি তার দলের ‘অনমনীয় অবস্থান’ বদল করেছেন। ডানপন্থী দলগুলোর সঙ্গে তিনি জোট করেছেন। স্কুল ও কর্মক্ষেত্রে নারীদের পর্দা করার অধিকার সমর্থন করেছেন।
সিএইচপি-প্রধানের সাবেক ঘনিষ্ঠ সহকর্মী রিজা সেলিককোলের ভাষ্যমতে, কিলিচদারোগু খুবই পরিশ্রমী, অত্যন্ত নিয়মনিষ্ঠ একজন মানুষ। অন্যদিকে, মৃদুভাষী আচরণের জন্য অনেকে তাকে ‘তুরস্কের গান্ধী’ বলে অভিহিত করেন।
তুরস্কের বর্তমান প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান একজন ‘ক্যারিশমাটিক’ নেতা হিসেবে পরিচিত। তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি আগ্রাসী। এরদোয়ানের চেয়ে পুরোপুরি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির মানুষ কিলিচদারোগু। তুরস্কের লোকজন তাকে শান্ত স্বভাবের মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেন। তাদের ভাষ্য মতে, ভারতীয় স্বাধীনতাসংগ্রামের নেতা, অহিংস আন্দোলনের পুরোধা মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে কিলিচদারোগুর সাদৃশ্য রয়েছে।
বিরোধী জোটের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার পর কিলিচদারোগু তার সমর্থকদের বলেন, আমাদের টেবিল হলো শান্তির টেবিল। দেশকে সমৃদ্ধি, শান্তি ও আনন্দের দিনে নিয়ে যাওয়াই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।
এনবিএস/ওডে/সি