সরকার পদ্ধতি সংস্কার নিয়ে বিক্ষোভে উত্তাল শ্রীলঙ্কা
মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ তৃতীয় দিনে সংঘর্ষে রুপ নিয়েছে। এই সংঘর্ষ হয়েছে শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন গ্রুপ পুলিশের মধ্যে। তাদের দাবি প্রতিশ্রুত সরকার পদ্ধতি পরিবর্তনের বিষয়টি দ্রুত বাস্তবায়ন করা। বুধবার পুলিশ বিভিন্ন রাস্তা আটকে দিয়ে বিক্ষোভে উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে।
বিরোধী দল ন্যাশনাল পিপলস পাওয়ার পার্টির পার্লামেন্ট সদস্য হারিনি আমেসুরিয়া বলেছেন, ‘বিক্ষোভের জনসভার উপর পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে হামলা চালায়। বিশেষ করে নারীদের উপর তারা বেশি চড়াও হয়। এর থেকেই বুঝা যায় কারা সহিংসতার সৃষ্টি করতে চায়।’
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, বুধবার সকাল থেকেই শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর রাস্তায় জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে সরকারবিরোধী নানা স্লোগান দেন তারা। এতে পুলিশ বাধা দিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ধাওয়া দিয়ে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের এমন আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আন্দোলনকারীরা। একইসঙ্গে, বিভিন্ন সময় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া ছাত্রদের মুক্তির দাবিও জানান তারা। এর আগে মঙ্গলবার অনুমতি ছাড়াই কলোম্বর বিশ্ববিদ্যালের লাইব্রেরিতে ঢুকে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। একদিন পরই ওই ঘটনায় দায় স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন পুলিশের এক মুখপাত্র।
১৯৪৮ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর প্রথমবারের মতো ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে শ্রীলঙ্কা। দেশটিতে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে ৫০ শতাংশেরও বেশি। এছাড়া আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-আইএমএফের কাছ থেকে ঋণ পেতে ৩৬ শতাংশ পর্যন্ত আয়কর বাড়িয়েছে সরকার।
এ অবস্থায় গত সপ্তাহেও জীবন যাত্রায় ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে দেশটির হাসপাতাল, ব্যাংক, শিক্ষক, ছাড়াও বিভিন্ন পেশার মানুষ বিক্ষোভ করেছেন।
এনবিএস/ওডে/সি