এলাহাবাদের হাইকোর্ট চত্বর থেকে ‘জ্ঞানভাপী মসজিদ’ সরাতে নির্দেশ

ঐতিহাসিকভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ হিসেবে পরিচিত ভারতে যেন ক্রমেই সাম্প্রদায়িক বৈষম্য দানা বেধে উঠেছে। একের পর এক সংখ্যালঘুদের জন্য নানা রকমের আইনী নির্দেশ যেন ক্রমাগতই দেশটির মুসলিম সম্প্রদায়কে বেশ কোণঠাসার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আর এবারে এই আদেশের মধ্য দিয়ে তার খানিকটা আবারো দেখলো দেশটির সংখ্যালঘুরা।

দেশটির  সর্বোচ্চ আদালত এই সংক্রান্ত আদেশটি জারি করে তিনমাসের মধ্যে তা বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে ২০১৭ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্ট একই আদেশ দিয়েছিলেন। পরে আদেশটির বিরুদ্ধে আপিল আবেদন করে ওয়াকফ মসজিদ হাইকোর্ট ও ইউপি সুন্নী কেন্দ্রীয় ওয়াকফ বোর্ড। সোমবার আবেদনটি খারিজ করে দিল সুপ্রীম কোর্ট।

বিচারপতি এম আর শাহ ও সিটি রাভিকুমারের দ্বৈত বেঞ্চ এসময় উত্তরপ্রদেশের সরকারকে মসজিদটি পুনঃস্থাপিত করতে জায়গা বরাদ্দের নির্দেশও দিয়েছেন। আদেশে বলা হয়, স্থাপনাটি বাতিলকৃত লিজ সম্পত্তির অন্তর্ভূক্ত হওয়ায় এখানে কোনো স্থাপনা রাখা আইনগত দিক থেকে অবৈধ।   

আরো বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মসজিদটি না সরানো হলে এলাহাবাদ হাইকোর্ট চাইলে তা সরিয়ে বা গুড়িয়ে দিতে পারবেন।

আবেদনের পক্ষে শুনানীতে অংশ নিয়ে আইনজীবি কপিল সিলবাল আদালতকে বলেন, ১৯৫০ সালে নির্মিত এই ঐতিহাসিক মসজিদটি মুহুর্তের মধ্যেই সরানো একদম অসম্ভব।

২০১৭ সালে সরকার বদলের সঙ্গে সবকিছুই যেন পরিবর্তিত হয়ে গেছে। সেসময় নতুন সরকার গঠনের ১০ দিন পর জনস্বার্থে একটি মামলা (পিআইএল) করা হয়েছিল।  

অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের আইনজীবী রাকশ দিওয়াইভেদি এটিকে একটি প্রতারনামুলক বিষয় বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এর আগেও দুইবার এটি নবায়নের আবেদন করছিল মসজিদ কর্তৃপক্ষ। কিন্ত কথিত রয়েছে মসজিদের নাম করে সাধারন মানুষ এখানে তাদের আবাসস্থল গড়ে তুলেছেন। কোনো একটি স্থানে নামাজের জন্য আহবান জানানো হলেই তা মসজিদ হিসেবে বিবেচিত হয়না। সুপ্রীম কোর্ট বা হাইকোর্টের বারান্দায় নামাজ পড়ে থাকেন অনেকেই তাহলে সেটিকে নিশ্চয় আমরা মসজিদ বলব না।

এর আগে এলাহাবাদ হাইকোর্ট জানিয়েছিলেন, আদালত চত্বরের অভ্যন্তরে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় এটি এর অভ্যন্তরে পুনঃস্থাপন করা সম্ভব নয়। এসময় নিজস্ব পার্কিংয়ের জায়গার সাংকুলানের কথাও উল্লেখ করেন হাইকোর্ট।

এনবিএস/ওডে/সি

Walton Ads