ইন্ডিয়ান অয়েলের সঙ্গে আদানিদের চুক্তি ‘কেলেঙ্কারি’ বলছে কংগ্রেস-তৃণমূল
ভারতে আদানি গ্রুপ বিতর্কে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ তীব্র করল কংগ্রেস। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দলটি অভিযোগ করে যে এক ‘প্রতিকূল’ চুক্তি করেছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন (আইওসি)। এই রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে আদানি গঙ্গাভারম বন্দরের মাধ্যমে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানি করতে, ‘তৈরি করা হচ্ছে’। ‘টেক অর পে’ নীতিতে এই চুক্তি হয়েছে। যার ফলে মাল না-নিলেও ইন্ডিয়ান অয়েলকে চুক্তি অনুযায়ী টাকা গুণতে হবে।
কংগ্রেস ইতিমধ্যেই আদানি গ্রুপের বিরুদ্ধে প্রচার অভিযানে অংশ নিয়েছে। হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ রিপোর্ট প্রকাশের পর থেকে এই প্রচার অভিযান চলছে। প্রচার অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে, ‘হাম আদানিকে হ্যায় কউন’? এই প্রচার অভিযানের অঙ্গ হিসেবে কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ অভিযোগ করেছেন, ভারতের সরকারি সংস্থাগুলোর মাধ্যমে আদানি গ্রুপকে সমৃদ্ধ করার চেষ্টা শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সম্বোধন করে এক বিবৃতিতে কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ বলেছেন, ‘এখন আমরা জানতে পারছি যে আইওসি আগে সরকার পরিচালিত বিশাখাপত্তনম বন্দরের মাধ্যমে এলপিজি আমদানি করত। তার পরিবর্তে পাশের গঙ্গাভারম বন্দর ব্যবহার করার জন্য তাকে তৈরি করা হচ্ছে। তা-ও একটি প্রতিকূল চুক্তির সৌজন্যে। এটা চুক্তি করা, না বেতন দেওয়া? আপনি কি ভারতের সরকারি সংস্থাকে আপনার বন্ধুদের সমৃদ্ধ করার হাতিয়ার হিসেবে দেখেন?’
বিশাখাপত্তনম বন্দরের বদলে এলপিজি আমদানির জন্য গঙ্গাভরম বন্দর ব্যবহার নিয়ে আইওসি এবং আদানি বন্দরগুলোর মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রাথমিক চুক্তিকে ‘কেলেঙ্কারি’ বলে অভিযোগ করেছেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। এই প্রসঙ্গে মহুয়া মৈত্র ১৫ ফেব্রুয়ারি পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি, সেন্ট্রাল ভিজিল্যান্স কমিশন এবং বন্দর ও শিপিং মন্ত্রণালয়কে ট্যাগ করে টুইট করেছেন।
তিনি আদানি পোর্টের ডিসেম্বর পর্যন্ত ত্রৈমাসিক উপার্জন পেশ ধরার জন্য একটি সংবাদ প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট টুইট করেছেন। প্রতিবেদনের ওই অংশে সংস্থাটি জানিয়েছিল, ‘এলপিজি সরবরাহের সুবিধার জন্য গঙ্গাভারম বন্দরের সঙ্গে ইন্ডিয়ান অয়েলের টেক-অর-পে মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে।’
এনবিএস/ওডে/সি