অস্ত্র রপ্তানিতে ভারতের অতীত রেকর্ড ভঙ্গ
২০২০ সালে ভারতের মোদি সরকার ৫ বছরে অস্ত্র রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল ২৫ বিলিয়ন ডলার বা সোয়া লাখ কোটি রুপি। এখন পর্যন্ত সবকিছু ঠিকমতই আগাচ্ছে। ভারতের অস্ত্র রপ্তানি যে কোনো সময়ের রেকর্ড ভেঙ্গে এখন তা ১৬ হাজার কোটি রুপি ছাড়িয়ে গেছে। ২০২৫ সাল নাগাদ শুধুমাত্র মহাকাশ খাথেই এ রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি রুপি।
এর মধ্যে আর্টিলারি গান তৈরির পর ভারত তা রপ্তানি শুরু করেছে। যা এখন পর্যন্ত ভারতের সেনাবাহিনী নিজেও ব্যবহার শুরু করেনি। ভারত থেকে এধরনের কামান সম্ভবত আর্মেনিয়া আমদানি করেছে তবে এব্যাপারে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রণালয় সুস্পষ্ট করে কিছু বলেনি। গত অর্থবছরের চাইতে চলতি অর্থবছরে ভারতের অস্ত্র রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে ৩ হাজার কোটি রুপি। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের তুলনায় ভারতের অস্ত্র রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে ১০ গুণ বেশি। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ হিসেব দিয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ অস্ত্র রপ্তানির সাফল্যকে দেশটির মেধার পরিস্কার বহিঃপ্রকাশ বলে অভিহিত করেছেন। মোদি বলেন, গত কয়েক বছরে এই সেক্টরে সংস্কারগুলি ভাল ফলাফল দিচ্ছে। আমাদের সরকার ভারতকে প্রতিরক্ষা উৎপাদনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করবে।
ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং তার দেশের অস্ত্র রপ্তানি বৃদ্ধিকে উল্লেখযোগ্য অর্জন বলে অভিহিত করে একটি টুইটে বলেন, ‘আমাদের প্রতিরক্ষা রপ্তানি দ্রুতগতিতে বাড়তে থাকবে।’
ভারত, প্রায় আট বছর আগে অস্ত্র আমদানিকারক দেশ হিসাবে পরিচিত ছিল। আর এখন ডর্নিয়ার-২২৮, ১৫৫ মিমি অ্যাডভান্সড টোয়েড আর্টিলারি বন্দুক, ব্রাহ্মোস মিসাইল, আকাশ মিসাইল সিস্টেম, রাডার, সিমুলেটর, মাইন প্রোটেক্টেড ভেহিকল, সাঁজোয়া যান ইত্যাদির মতো বড় অস্ত্র প্ল্যাটফর্ম রপ্তানি করছে। রপ্তানির মধ্যে আরো আছে পিনাকা রকেট ও লঞ্চার, গোলাবারুদ, থার্মাল ইমেজার, বডি আর্মারস ইত্যাদি। ভারত ফোর্জের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক অমিত কল্যাণী এর আগে বলেছিলেন যে ভারত আর্টিলারি বন্দুকের উৎপাদন এবং রপ্তানির জন্য বিশ্বব্যাপী কেন্দ্র হয়ে উঠবে। গত মাসেই দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রণালয় ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য ৩০৭ এটিএজিএস কামান সংগ্রহের প্রক্রিয়াটিকে অনুমোদন করে। ভারত এখন ৮৫টিরও বেশি দেশে রপ্তানি করছে। বর্তমানে ১০০টি সংস্থা প্রতিরক্ষা পণ্য রপ্তানি করে ভারতীয় শিল্প বিশ্বের কাছে তার নকশা এবং বিকাশের ক্ষমতা দেখিয়েছে। ভারত থেকে অস্ত্র রপ্তানি পদ্ধতিগুলিকে সরল করা হয়েছে এবং অনলাইনে কমসময়ের মধ্যে রপ্তানি করার বিষয়টি অনুমোদন করা হচ্ছে। ওজিইএল হল এমন একটি এককালীন রপ্তানি লাইসেন্স যা রপ্তানি অনুমোদন না নিয়েই নির্দিষ্ট গন্তব্যে নির্দিষ্ট আইটেম অস্ত্র রপ্তানির অনুমতি দেয়।
এনবিএস/ওডে/সি