‘হোসেন ওবামা’! হিমন্ত বিশ্বশর্মার টুইট ঘিরে তোলপাড়, আসামের মুখ্যমন্ত্রীকে তোপ

বৃহস্পতিবার প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সাক্ষাৎকার নিয়ে ভারতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিরোধীরা যেমন সেই সাক্ষাৎকারকে হাতিয়ার করে বিজেপির তীব্র সমালোচনায় নামে তেমনই সরকারি দলও ওবামার বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছে। এমনকী শোনা যাচ্ছে, ওবামার নামে গুয়াহাটিতে নাকি এফআইআর দায়ের হয়েছে। সেই নিয়ে এক নেটিজেনের টুইটের জবাব দিতে গিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। হিমন্ত লিখেছেন, ‘এখানে অনেক হোসেন ওবামা রয়েছে।’ এরপরেই হিমন্তের বিরুদ্ধে সমালোচনার স্রোত বয়ে যাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

এখনও মার্কিন সফরে নিয়ে বিভিন্ন ছবি, ভিডিওর কোলাজ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে বিজেপির আইটি সেল নতুন করে আরও একবার মোদিকে ‘বিশ্বগুরু’ হিসাবে তুলে ধরতে জোর প্রচারণা চালাচ্ছে। বিজেপি যখন মোদিস্তূতি চালাচ্ছে, তখন এক সাক্ষাৎকারে ওবামা বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসেন বাইডেন-মোদির বৈঠক নিয়ে। তিনি বলেছিলেন, ‘বাইডেনের উচিত ভারতে সংখ্যালঘু মুসলিমদের সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে কথা বলা।’  

রোহিণী সিং নামে এক সাংবাদিক টুইট করে প্রশ্ন তোলেন, ‘ওবামার বিরুদ্ধে কি গুয়াহাটিতে এফআইআর দায়ের হয়েছে? আসাম পুলিশ কি ওবামাকে গ্রেফতার করতে ওয়াশিংটন যাচ্ছে?’

এই সাংবাদিকের টুইটের জবাব দিতে গিয়ে হিমন্ত বলেন, ‘ভারতে অনেক হোসেন ওবামা রয়েছেন। ওয়াশিংটনে যাওয়ার আগে, তাদের যত্ন নেওয়াই আমাদের প্রথম কাজ। আসাম পুলিশ প্রাধান্যের বিচারে কাজ করে।’

সন্দেহ নেই হিমন্তের নিশানা কাদের দিকে। বা তিনি কী ইঙ্গিত করতে চেয়েছেন। আসামের সংখ্যালঘু তথা মুসলিমদের ব্যাপারে হিমন্ত যে ‘আগ্রাসী’ সেই নমুনা কম নেই। মাদ্রাসা নিয়ে সরকারি সিদ্ধান্ত থেকে স্কুল শিক্ষার সিলেবাস থেকে মুঘল আমলকে ছেঁটে ফেলা হিমন্ত এগিয়েছেন বেপরোয়া ভঙ্গিতে। ফলে ‘এদেশের অনেক হোসেন ওবামা’ বলে আসলে তিনি মুসলমান সম্প্রদায়কেই বিঁধতে চেয়েছেন বলে মত অনেকের।

একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বারাক ওবামা বলেছেন, ‘বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন মোদির সঙ্গে বৈঠকে বসলে, সংখ্যাগুরু হিন্দু দেশ ভারতে সংখ্যালঘু মুসলিমদের সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে কথা বলা উচিত। আমি মোদিকে ভাল চিনি। আমার যদি ওর সঙ্গে কথা হত, তাহলে আলোচনার অন্যতম বিষয় হত ভারতে সংখ্যালঘু মুসলিমদের অধিকার ও সুরক্ষা। কারণ, প্রবল আশঙ্কা রয়েছে যে ভারত ভেঙে টুকরো টুকরো হতে পারে।’

সেই নিয়ে বিজেপি নেতারা ওবামার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছে। আবার উল্টোদিকে বিরোধীরা ওবামার সাক্ষাৎকারকে ধরে মোদি সরকারকে নিশানা করতে শুরু করে। এমনিতেই ভারতে মুসলমান-সহ সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রশ্নের মুখে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাও তাদের সমীক্ষায় বলেছে, মোদি জমানায় ভারতে মুসলিমরা বিপন্ন। যার অভিঘাত সুদূরপ্রসারী হতে পারে বলেও আশঙ্কা তাদের।

মোদির আমেরিকা সফরকালে প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওমাবার মন্তব্য আন্তর্জাতিক স্তরেও ভারতকে ‘বেইজ্জত’ করেছে বলে মত পর্যবেক্ষকদের অনেকের। হতে পারে সে কারণেই প্রশ্নোত্তর পর্বে মোদি মার্কিন মুলুকে দাঁড়িয়ে বলার চেষ্টা করেছেন, ‘ভারতে সংখ্যালঘুরা সুরক্ষিত। গণতন্ত্র ভারতের ডিএনএ- তে বইছে।’

কংগ্রেসের বক্তব্য, ‘এই ওবামাকে নিয়ে এসেই ২০১৫ সালের ২৬ জানুয়ারি কত আদিখ্যেতা করেছিলেন মোদি। আর যেই তিনি এখন মৌলিক প্রশ্নটি তুলে দিয়েছেন, ওমনি তিনি হোসেন ওবামা হয়ে গেলেন। এই হল বিজেপির চরিত্র। আসলে ওদের ডিএনএ-তে ভেদাভেদ ছাড়া কিচ্ছু নেই।’সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা

 এনবিএস/ওডে/সি

news