মোদিকে আমাদের কথা শুনতে হবে, আমরা কষ্টে আছি: দিল্লির শাহী ইমাম

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, আমরা হিন্দু-মুসলিম, জৈন, পার্সি সবাই একসাথে থাকি, আমাদের মধ্যে কোনও ভেদাভেদ নেই। আমরা সদ্ভাব বজায় রেখে চলি। তিনি শনিবার এক বার্তায় ওই মন্তব্য করেন। 

এদিকে ভারতের দিল্লির ঐতিহাসিক জামে মসজিদের শাহী ইমাম মাওলানা সৈয়দ আহমদ বুখারি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী আপনি আপনার ‘মনের কথা’ ( রেডিওতে মাসিক ‘মন কী বাত’ অনুষ্ঠান) বলেন, এবার মুসলমানদের মনের কথাও শুনুন। প্রধানমন্ত্রীকে মুসলমানদের মনের কথা শোনা উচিত, মুসলিম হওয়ার কারণে আমরা শাস্তি পাচ্ছি। 

দিল্লির শাহী ইমাম বিজেপিশাসিত হরিয়ানার নূহের সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক  সহিংসতাসহ বিভিন্ন বিষয়ের উল্লেখ করে বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ সব করা হচ্ছে এটা সবার জানা। মাওলানা বুখারি বলেন, ‘কোনো দল চিরকাল ক্ষমতায় থাকবে না। প্রধানমন্ত্রীর উচিত পরিস্থিতি বোঝা এবং মনোযোগ দেওয়া। স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরও মুসলমানরা সামাজিক ন্যায়বিচার পায়নি। ‘সাচার কমিটির রিপোর্ট’ তারই দর্পণ। আমাদের জন্য কমিশন তৈরি হতে থাকে কিন্তু কিছুই হয়নি। আমাদের অবস্থা দলিতদের চেয়েও খারাপ।’ 

অন্যদিকে ভারতের পশ্চিমবাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে লক্ষ্য করে বলেন, ‘আপনাদের কাজ মণিপুরের মতো জাতিদাঙ্গা লাগানো, আপনাদের কাজ দার্জিলিংকে টুকরো করা, আপনাদের কাজ উত্তরবঙ্গকে টুকরো করা, আপনাদের কাজ জঙ্গলমহলে আগুন জ্বালানো। এই আগুন আমরা জ্বালাতে দেবো না। প্রয়োজনে আমার শরীরের উপর দিয়ে আপনাকে আগুন জ্বালাতে হবে। তবেই আপনাকে এসব নোংরা খেলা, দাঙ্গার খেলা করতে দেওয়া হবে।’ 

তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক ঘটনা দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। মণিপুর, মেওয়াত, ট্রেনে মুসলমানদের হত্যা করা, গুরুগ্রামে নির্দোষ ইমামকে হত্যা করা হয়েছে, নূহতে নিরপরাধদের বাড়িঘর ভেঙে ফেলা হয়েছে। আজ মেওয়াতের মুসলমানদের অবস্থা তাদের ঘরবাড়ি নেই, তাদের বাড়িঘর বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা খোলা আকাশের নিচে বাস করতে বাধ্য হচ্ছে। ভারতের কোনো আইন কী বলে যে তদন্ত ছাড়াই মানুষের বাড়িঘর ভেঙে ফেলতে হবে? আমরা সহিংসতা সমর্থন করি না, যা ঘটেছে তা বেদনাদায়ক। এটা ভারতের মতো গণতান্ত্রিক দেশের জন্য ভালো নয়।’  

এদিকে মাওলানা বুখারী বলেন, ‘দেশ আজ সাম্প্রদায়িকতার কবলে। এই সাম্প্রদায়িকতা দেশের জন্য বড় বিপদ। এক ধর্মে বিশ্বাসী মানুষকে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পঞ্চায়েত করে (জনসমাবেশ) ‘মুসলমানদের বয়কট’ করার কথা বলা হচ্ছে! হিন্দুদের বলা হচ্ছে মুসলমানদের বয়কট করতে। নূহ, মেওয়াতসহ (বিজেপিশাসিত) হরিয়ানার অনেক এলাকায় পঞ্চায়েতের মাধ্যমে মুসলমানদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ৫৭টি দেশের মুসলমানরা কী কখনো অন্য কোনো ধর্মের মানুষকে ‘বয়কট’ করার কথা বলেছে? গতকাল পর্যন্ত আমরা সবাই একসাথে থাকতাম কিন্তু কিছু ধর্মান্ধ এ দেশের পরিবেশ নষ্ট করে দিয়েছে। এ জন্য কী আমাদের পূর্বপুরুষরা আত্মত্যাগ স্বীকার করে দেশ স্বাধীন করেছিলেন?’

মাওলানা বুখারী আরও বলেন, ‘আমি ভারতের মুসলমানদের পক্ষ থেকে বলছি যে আমরা সরকারের সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রস্তুত। আমাদের সাথে কথা বলুন, হিন্দু নেতাদের সাথেও কথা বলুন এবং তারপর একটি যৌথ বৈঠক করুন। এই পরিস্থিতির সমাধান খুঁজে বের করুন যাতে দেশকে এই বিদ্বেষের পরিবেশ থেকে বাঁচানো যায়।’ তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহকেও বড় হৃদয় নিয়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলার আহ্বান জানিয়েছেন।

পশ্চিমবাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বলেন, ‘টাকা দেন না, পয়সা দেন না, ভালোবাসা দেন না, স্নেহ দেন না, আবেগ দেন না। কোথায় আপনার গণতন্ত্র? অভিন্ন দেওয়ানি বিধি প্রসঙ্গে মমতা বলেন, ‘ইউনিফর্ম সিভিল কোড’। একদম হবে না ‘ইউনিফর্ম সিভিল কোড’। ‘এনআরসি’ (জাতীয় নাগরিক পঞ্জি) যেমন আমরা আটকেছি, ‘ক্যা’/’সিএএ’ (সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন) ‘ইউনিফর্ম সিভিল কোড’ও আমরা আটকাবো। তার কারণ, আপনাদের মনে রাখতে হবে, এ দেশটা বড় দেশ। সবরকম বৈচিত্রের মধ্যেই আমাদের একতা। হিন্দুদের মধ্যেও অনেক সাব-কাস্ট আছে। মুসলিমদের মধ্যেও অনেক সাব-কাস্ট আছে। আদিবাসী, খ্রিস্টানদের মধ্যেও আছে। দলিতদের মধ্যেও আছে। কখনো এগুলো চিন্তা করে দেখেছেন? কারও সাথে কোনও বিষয়ে আলোচনা করেন? কিচ্ছু করেন না। 

মোদিকে লক্ষ্য করে মমতা আরো বলেন, চুপচাপ বসে থাকেন, আর দূরদর্শনকে (সরকারি  টেলিভিশন সংস্থা) মোদিদর্শন করে দিয়ে ‘মন কী বাত’ থেকে শুরু করে বিজেপির কথা বলেন। বিজেপির যে চোর ডাকাতগুলো পুষেছেন বিজেপির ওয়াশিং মেশিনে গেলেই তারা সাদা হয়ে যাচ্ছে। চোর-ডাকাতগুলো বসে আছে বিজেপি পার্টিতে। সবচেয়ে বড় কথা মহিলাদের উপর অত্যাচার আজ এত বেড়ে গেছে দেশে যা কোনও দিনও হয়নি। তাই আপনাকে বলি আগে নিজের রাজ্যগুলো (বিজেপিশাসিত রাজ্য) সামলান। বাংলা শান্তিতে চলছে, শান্তিতে থাকতে দিন।’ আগামীতে আপনাকে আমরা চেয়ার থেকে সরাবো। ‘ইন্ডিয়া জোট’ চাচ্ছে বিজেপি তুমি চেয়ার ছাড়ো বলেও মন্তব্য করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা

এনবিএস/ওডে/সি
        

Walton Ads