মুসলমান বিরোধী কথা বলার অভিযোগ, থানায় হাজিরা দিতে হবে রামদেবকে

উস্কানিমূলক মন্তব্য মামলায় অস্বস্তিতে পড়লেন যোগগুরু বাবা রামদেব। আগামী ৫ অক্টোবর এই মামলার তদন্তের জন্য রামদেবকে তদন্তকারী অফিসারের কাছে হাজিরার নির্দেশ দিল রাজস্থান হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তার গ্রেপ্তারির উপর অন্তর্বতী স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ল। আগামী ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা যাবে না বলে নির্দেশ হাইকোর্টের। বিচারপতি কুলদীপ মাথুরের সিঙ্গেল বেঞ্চ রামদেবকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তদন্তকারী অফিসারকে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছে। মামলা পরবর্তী শুনানি ১৬ অক্টোবর। ওইদিন পুলিশকে কেস ডাইরি পেশ করার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। 

ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছিল রামদেবের বিরুদ্ধে। গত ২ ফেব্রুয়ারি রামদেব রাজস্থানে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মুসলিম বিরোধী মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছিল। তিনি বলেছিলেন, ‘মুসলিমরা হিন্দু নারীদের অপহরণ ও সন্ত্রাসমূলক কাজের জন্য যুক্ত থাকে।’ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ৫ ফেব্রুয়ারি এক ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে বারমের থানার পুলিশ রামদেবের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে। ওই ব্যক্তি অভিযোগ করেছিলেন, রামদেব ইচ্ছাকৃতভাবে মুসলিমবিরোধী মন্তব্য করেছেন এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ তৈরি করতে এই বিবৃতিগুলি দিয়েছিলেন।

তার ভিত্তিতে পুলিশ রামদেবের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ভিত্তিতে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা প্রচার করা, ধর্মীয় অনুভূতি বা বিশ্বাসকে আঘাত করার প্রভৃতি ধারায় মামলা নথিভুক্ত করে। শুধু তাই নয়, রামদেবের মন্তব্যের পরেই প্রতিবাদ আন্দোলনে নামেন সেখানকার মুসলিমরা। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে জেলাশাসকের কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছিলেন তারা। 

যদিও যে ব্যক্তি অভিযোগ জানিয়েছিলেন তিনি পরে দাবি করেছিলেন যে তিনি স্ব ইচ্ছায় এই অভিযোগ দায়ের করেননি। তিনি একজন নিরক্ষর ব্যক্তি। তার আইনজীবী একটি জমি বিরোধের মামলার বিষয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন এবং রামদেবের বিরুদ্ধে অভিযোগে তার স্বাক্ষর নিয়েছিলেন। তিনি মামলা প্রত্যাহারের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

তা সত্ত্বেও, বারমেরের এসপি দীপক ভার্গব জানিয়েছিলেন, যে একবার এফআইআর দায়ের করা হলে তা প্রত্যাহার করা যাবে না এবং পুলিশ সেই অনুযায়ী অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাবে।সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা

এনবিএস/ওডে/সি

news