গাফিলতির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করল লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় সরকার

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বন্যা-জলোচ্ছ্বাসে হাজার হাজার মানুষ নিহতের ঘটনায় অভিযোগের আঙুল উঠেছে লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলের বিদ্রোহী জেনারেল খলিফা হাফতারের সরকারের বিরুদ্ধে। তাদের অবহেলার কারণেই ঘটেছে এই বিপুল প্রাণহানির ঘটনা। তবে এ অভিযোগ স্বীকার করতে নারাজ সেখানকার সরকার। 
 
সেখানকার ক্ষমতাসীন সরকারের দাবি, সেনা কর্মকর্তা ও অন্যরা ঝড়ের আগে দেরনা শহরের বাসিন্দাদের ঝড় সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছিলেন। তারা তাদেরকে নিরাপদ স্থানে সরেও যেতে বলেছিলেন। কিন্তু সাধারণ লোকজনের অনেকেই এই সতর্কতাকে ‘অতিরঞ্জিত’ মনে করে আমলে নেয়নি।

গত ১০ সেপ্টেম্বর লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহর দেরনায় আছড়ে পড়ে ভূমধ্যসাগরে উদ্ভূত প্রবল শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ড্যানিয়েল। এরপর শহরটির ভেতর দিয়ে বয়ে নদীর ২টি বাঁধ ভেঙে কয়েক কো্িট গ্যালন পানি শহরের ভেতরে প্রবেশ করায় ভেসে যায় শহরটি। ভেঙ্গে পড়েছে অধিকাংশ আবাসিক ভবন। ধ্বংসস্তুপের নিচ থেকে এখনও উদ্ধার হচ্ছে শত শত মরদহ। গত ছয় দিনে দেরনার বিভিন্ন ধ্বংসস্তুপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১১ হাজার ৩০০ মরদেহ। এখনও অন্তত ২০ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছে সেখানে। 

স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবি বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, শহরের ৩০ শতাংশ অঞ্চল নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। বন্যায় অসংখ্য মানুষকে ভূমধ্যসাগরে ভেসে যায়। তীব্র স্রোতের কারণে ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরে সমুদ্রের মরদেহ ভাসতে দেখা যায়।

ধসে পড়া অবকাঠামোর কারণে সড়ক আটকে যাওয়ায় দারনায় উদ্ধারকর্মীদের কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। জ্বালানি, পানি ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণেও উদ্ধারকাজে বেগ পেতে হচ্ছে উদ্ধারকর্মীদের। এমন অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রবেশের জন্য একটি ‘সি করিডোর’ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ।এমন পরিস্থিতিতে দারনায় জরুরি ভিত্তিতে সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। 

২০১১ সালে বিদ্রোহী সামরিক গোষ্ঠির হাতে প্রেসিডেন্ট মুয়াম্মার গাদ্দাফি নিহত হওয়ার পর গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়া। বর্তমানে ১৭ লাখ ৫৯ হাজার ৫৪১ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই দেশটি পূর্ব ও পশ্চিম— দুই ভাগে বিভক্ত। দু’টি আলাদা সরকার দেশের দুই অংশ নিয়ন্ত্রণ করে।বেনগাজি শহরকে পূর্ব লিবিয়ার রাজধানী ঘোষণা করেছে বিদ্রোহী সরকার। তবে এই সরকার এখন পর্যন্ত কোন স্বীকৃতি পায়নি। সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা

এনবিএস/ওডে/সি
 

news