অশান্ত মণিপুর, মিয়ানমার সীমান্তে বড় অভিযান শুরু সেনাবাহিনীর

মনিপুরের জাতি দাঙ্গা শুরুর পর ছয় মাস কেটে গেছে। ৩ মে সেখানে মৈতেই ও কুকি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের সূচনা হয়েছিল। কিন্তু এখনও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। ফলে শুক্রবার থেকে নতুন করে জঙ্গি দমন অভিযান শুরু করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। ভারত-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকা মোরেতে গত মঙ্গলবার জঙ্গি হামলায় একজন মহকুমা পুলিশ অফিসার নিহত হন। গুলিবিদ্ধ হন আরও দুই পুলিশ কর্মী। 

গোয়েন্দা সূত্রের খবর, ওই এলাকা কার্যত জঙ্গিদের দখলে চলে গিয়েছে। জঙ্গিদের মদত দিচ্ছে মিয়ানমারের একাধিক বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন। তারা সে দেশের সেনা পরিচালিত সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার পাশাপাশি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতেও খুন রাহাজানি করে চলেছে। মোরের সাম্প্রতিক হিংসার ঘটনায় মিয়ানমার জঙ্গিদের সক্রিয় ভূমিকা নজরে এসেছে প্রশাসনের। সেই কারণে, বিলম্ব না করে ভারতের ওই ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার করতে জোরদার অভিযান শুরু হয়েছে শুক্রবার। 

বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত মোরেতে বিপুল সংখ্যায় নিরাপত্তা জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে। সড়ক পথ ছাড়াও দুর্গম এলাকায় ছোট বিমান থেকে সেনা নামানো হয়। ওই এলাকাকে জঙ্গি মুক্ত করতে ইতোমধ্যে গোয়েন্দা সূত্রে তথ্যসংগ্রহ করেছে সরকারি এজেন্সিগুলি। 

এদিকে ছ’মাস পরেও মণিপুরের অন্যত্র হিংসার বাতাবরণ রয়ে গিয়েছে। বিগত কয়েকদিন সাধারণ মানুষ বড় ধরনের হিংসা শিকার না হলেও পরিস্থিতি যে কোন সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে, মোরের ঘটনায় তেমন ইঙ্গিত রয়েছে, মনে করছে প্রশাসন।  কারণ লুট হওয়া অস্ত্র অধিকাংশই এখনই উদ্ধার করা যায়নি।

সরকারি সূত্রের খবর, ৩ মে জাতিদাঙ্গা শুরুর পর কুকি বহুল চূড়াইচাঁদপুর এবং মৈতেই প্রধান বিষ্ণুপুর ও পূর্ব ইম্ফল জেলার অস্ত্রাগার থেকে লুঠ হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের ৭৫ শতাংশ এখনই উদ্ধার করা যায়নি। প্রায় সাড়ে ছয় লাখ রাউন্ড গুলি জঙ্গিরা লুঠ করে। বিক্ষিপ্ত হিংসার ঘটনার তদন্তে বোঝা যাচ্ছে লুঠ হওয়া অস্ত্র ব্যবহার করছে দুই গোষ্ঠী। সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা

এনবিএস/ওডে/সি

news