গাজা যুদ্ধ নিয়ে আইসিসি’র গ্রেপ্তার প্রষ্টোর তীব্র নিন্দা নেতানিয়াহুর

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির চেষ্টার তীব্র নিন্দা করেছেন।

বিবিসি জানিয়েছে, সোমবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে হিব্রু ভাষায় দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘গণতান্ত্রিক ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী-প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে উগ্রপন্থি খুনীদের সঙ্গে এক সারিতে বিবেচনা করায় ইসরায়েল হতভম্ব, হতাশ এবং ক্ষুব্ধ। ইসরায়েলের নেৃতত্বকে হামাসের সমপর্যায়ে নামিয়ে আনা একটি হঠকারি এবং চরম ঔদ্ধত্বপূর্ণ মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ।’

সোমবারই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রধান প্রসিকিউটর করিম খান ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু, প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেনি গ্যালান্ট ও হামাস প্রধান ইসমাইল হানিয়া, অন্য দুই শীর্ষ নেতা - মোহাম্মদ দিয়াব ইব্রাহিম আল-মাসরি, আল কাসেম ব্রিগেডের নেতা এবং মোহাম্মদ দেইফ নামে পরিচিতসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে অপরাধ সংগঠনের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চেয়ে আবেদন করেছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, ‘ইসরায়েল গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে না। ইসরায়েলের সঙ্গে হামাসকে একদৃষ্টিতে দেখার কোনো সুযোগ নেই।’ এর পরপরই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এন্টনি ব্লিংকেন বলেছেন, ‘ওয়াশিংটন এই পদক্ষেপকে মৌলিকভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। এটি লজ্জাজনক। আইসিসির এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই।’ 

সিএনএনের এক পৃথক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, তার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এবং হামাস নেতাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চাওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর ফ্রান্স তার আইসিসির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবিক আইনগুলো কঠোরভাবে মেনে চলার প্রয়োজনীয়তা এবং ‘বিশেষ করে গাজা উপত্যকায় বেসামরিক হতাহতের অগ্রহণযোগ্য স্তর এবং মানবিক প্রবেশের অধিকারের অভাব সম্পর্কে’ ‘অনেক মাস ধরে’ সতর্ক করে আসছে প্যারিস।

সিএনএন জানিয়েছে, আইন বিশেষজ্ঞদের একটি গ্রুপের মধ্যে রয়েছেন মানবাধিকার অ্যাটর্নি আমাল ক্লুনিও। তারাই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রসিকিউটরকে ইসরায়েল এবং হামাসের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

 সোমবার এক বিবৃতিতে এ প্রসঙ্গে করিম খান বলেন, গত ৭ মাস ধরে গাজা উপত্যকার বাসিন্দারা যে ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন, তার জন্য নেতানিয়াহু-হানিয়াসহ এই ৫ জন মূলত দায়ী। গত ৭ মাসে গাজায় যত যুদ্ধাপরাধ হয়েছে, সেসবের জন্যও দায়ী এই ৫ জন। গ্রেপ্তারি পরোয়ানার জন্য আবেদনের প্রধান কারণ এটিই।

তবে আইসিসি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলেও তা বাস্তবায়নের জন্য শক্তিপ্রয়োগের ক্ষমতা আদালতটির নেই। তবে মূল সমস্যা হলো, একবার যদি আইসিসি পরোয়ানা জারি করে - তাহলে তা প্রত্যাহারের আগ পর্যন্ত এই আদালতকে স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলোতে সফর করা ব্যাপক ঝুঁকিপূর্ণ হবে নেতানিয়াহু, হানিয়া এবং তালিকার অপর তিন জনের জন্য। সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা

এনবিএস/ওডে/সি

news