নাবালকদের সাথে যৌনতা জিপসি সংস্কৃতির অংশ, স্প্যানিশ আদালতের রুল

 স্পেনের একটি আদালত ১২ বছর বয়সী একটি মেয়েকে ক্রমাগত যৌন নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত ২০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে আদালত খালাস দিয়েছে। 

সেন্ট্রাল স্পেনের সিউদাদ রিয়ালের প্রাদেশিক আদালত ওই জিপসি ব্যক্তিকে বেকসুর খালাস দিয়ে বলেছে ১২ বছর বয়সী মেয়ের সঙ্গে ক্রমাগত যৌনতা  নির্যাতন নয় বরং জিপসি সংস্কৃতির বিশেষত্ব। স্পেনের সমতা পর্যবেক্ষণ সংস্থা আদালতে এই সিদ্ধান্তকে ‘পরম অসম্মান’ এবং জিপসি নাবালকদের অধিকার সমুন্নত রাখতে ব্যর্থ প্রচেষ্টা বলে নিন্দা করেছে।

২০ বছর বয়সী ওইজিপসি পুরুষ এও দাবি করে যে ১২ বছর বয়সী মেয়েটির সাথে তার ‘বিয়ের মতো একটি সম্পর্ক’ ছিল। এই দম্পতি ২০২২ সালে তাদের সম্পর্ক শুরু করে যা তাদের উভয়ের পরিবার অবগত ছিল। 

মেয়েটি শেষ পর্যন্ত যমজ সন্তানের গর্ভবতী হয়ে পড়ে এবং একজন ডাক্তারের কাছে গেলে তিনি এধরনের সম্পর্কের সন্দেহজনক প্রকৃতি সম্পর্কে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। স্প্যানিশ আইনে যৌন সম্মতির বয়স ১৬ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। 

তাই ওই মেয়েটিকে আটক করার পর ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে তাকে ক্রমাগত যৌন নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। প্রসিকিউটররা আদালতে তাকে কমপক্ষে ১১ বছর ছয় মাসের সাজা দেওয়ার দাবি জানান।

কিন্তু আদালত শেষপর্যন্ত ওই ব্যক্তিকে খালাস দিয়ে বলেছে যে একজন প্রাপ্তবয়স্ক এবং একজন নাবালকের মধ্যে সম্পর্ক ‘জিপসি সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রের অংশ।’

আসামি দাবি করেন যে তিনি আসলে মেয়েটির প্রকৃত বয়স সম্পর্কে সচেতন ছিলেন না, তিনি মনে করেছিলেন যে তাদের সম্পর্ক শুরু হওয়ার সময় তার বয়স প্রায় ১৫ বছর ছিল, আদালত এই ধরনের অজুহাতকে যথেষ্ট ‘বিশ্বাসযোগ্য’ বলে মনে করেছে।

বিচার বিভাগও যুক্তি দিয়েছিল যে মামলায় সম্মতির আইনি বয়সকে উপেক্ষা করা যেতে পারে, যুক্তি দিয়ে উভয়ের মধ্যে বয়সের পার্থক্য বড় ছিল না যখন উভয়ই একই রকম শারীরিক এবং মানসিক বিকাশ দেখিয়েছিল। উভয়ের মধ্যে সম্পর্কটি আসলে একটি রোমান্টিক সম্পর্কের অর্থে সর্বদা সম্মতিপূর্ণ।’ ছিল বলে আদালত তা পর্যবেক্ষণে বলেছে।  সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা

এনবিএস/ওডে/সি

news