হংকংয়ের শেয়ার বাজার গত প্রায় তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় একদিনের পতন দেখলো। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ট্যারিফ ঘোষণার পর আতঙ্কিত বিনিয়োগকারীদের বিক্রি চাপে হংকংয়ের হ্যাং সেং ইনডেক্স সোমবার ১৩.২২% নেমে গেছে, দিনের সর্বোচ্চ পতন ছিল ১৩.৭৪%। এটা ১৯৯৭ সালের এশিয়ান ফাইনান্সিয়াল ক্রাইসিসের পর হংকং বাজারের সবচেয়ে বড় একদিনের পতন।
কেন এত বড় ধস?
গত সপ্তাহে চীন মার্কিন পণ্যে ৩৪% ট্যারিফ আরোপের প্রতিশোধমূলক সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর ট্রাম্প তার ট্যারিফ নীতিকে "ঔষধ" বলে আখ্যা দিয়ে আরও কঠোর অবস্থান নেন। হংকংয়ে শুক্রবার ছিল পাবলিক হলিডে, তাই সোমবার বাজার খুলেই একসাথে ট্রাম্প ও চীনের ট্যারিফের প্রভাব পড়েছে।
ইউবিপির সিনিয়র ইকোনমিস্ট কার্লোস ক্যাসানোভা বলেছেন, "এবারের ট্যারিফের মাত্রা অভূতপূর্ব। আগের প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থাগুলো চীনের মোট আমদানির ১%-এরও কমকে টার্গেট করত। এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।"
হংকং বাজার কেন বেশি প্রভাবিত হলো?
ন্যাটিক্সিসের এশিয়া প্যাসিফিক প্রধান অর্থনীতিবিদ অ্যালিসিয়া গার্সিয়া-হারেরো বলেছেন, "চীনের মূল ভূখণ্ডের শেয়ার বাজারের চেয়ে হংকং বাজার ট্যারিফের প্রভাব বেশি সঠিকভাবে প্রতিফলিত করে। কারণ চীনে আপনি স্বাধীনভাবে ট্রেডিং বা শর্ট সেলিং করতে পারবেন না, কিন্তু হংকংয়ে সবই সম্ভব।"
এশিয়াজুড়ে বাজারের করুণ দশা
হংকং ছাড়াও চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, অস্ট্রেলিয়া ও সিঙ্গাপুরের শেয়ার বাজারেও বড় ধস দেখা গেছে। গত বুধবার ট্রাম্পের ট্যারিফ ঘোষণার পর থেকে গ্লোবাল মার্কেটে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার উবে গেছে।
মার্কিন শুল্ক কর্তৃপক্ষ রবিবার থেকে ১০% বেসিক ট্যারিফ আরোপ শুরু করেছে, আর বুধবার থেকে ১১% থেকে ৫০% পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর হবে। ট্রাম্পের "লিবারেশন ডে" ঘোষণার পর থেকে মার্কিন শেয়ার বাজার ৬ ট্রিলিয়ন ডলার হারিয়েছে।
আগামী দিনের আশঙ্কা
ওয়াল স্ট্রিট সোমবার খুলতেই আরও বড় ধসের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এসঅ্যান্ডপি৫০০ ও ন্যাসড্যাক-১০০ ফিউচার যথাক্রমে ২.৭% ও ৩.৫৫% নিচে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই অস্থিরতা এখনই শেষ হওয়ার লক্ষণ নেই।
#হংকং_স্টকমার্কেট #ট্যারিফ_যুদ্ধ #বৈশ্বিক_বাজার_ধস #অর্থনৈতিক_মন্দা #বিনিয়োগ_আতঙ্ক