ভারতের বুধবার মধ্যরাতের আগ্রাসনের পর পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির জরুরি বৈঠক ঠেকেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ভারতের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তরার জানিয়েছেন, এই বৈঠক আজ সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে। ভারতের হামলাকে পাকিস্তান একটি কাপুরুষোচিত এবং বেসামরিক নাগরিকদের উপর আগ্রাসন হিসেবে বর্ণনা করেছে। পাকিস্তান জানিয়েছে, তারা এই আক্রমণের উপযুক্ত জবাব দেবে। জাতীয় নিরাপত্তা কমিটি এই হামলার জবাবে কঠোর পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে, ভারত পাকিস্তানের তিনটি শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যাকে পাকিস্তান একটি কাপুরুষোচিত যুদ্ধকর পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেছেন, এই আগ্রাসনের জবাবে পাকিস্তান দৃঢ় প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে।
পাকিস্তানের সরকার জানিয়েছে, ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বেসামরিক এলাকায় সংঘটিত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ একটি পোস্টে বলেছেন, পাকিস্তান এই হামলার উপযুক্ত জবাব দিচ্ছে এবং জনগণের মনোবল উচ্চ রয়েছে। পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এই আগ্রাসনের তদন্তের দাবি জানিয়েছে। হামলার ফলে বিদেশি এয়ারলাইন্স পাকিস্তানের আকাশসীমা এড়িয়ে চলছে, তবে পাকিস্তানি এয়ারলাইন্স স্বাভাবিকভাবে চলছে।
ভারত দাবি করেছে যে তারা সন্ত্রাসী ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে, তবে পাকিস্তান বলছে, এই হামলা বেসামরিক এলাকায় লক্ষ্য করে করা হয়েছে। ভারত অভিযোগ করেছে যে পাকিস্তান ভারত-অধিকৃত কাশ্মীরের ভিম্বর গালি গ্রামে গুলি চালিয়েছে, যার জবাবে ভারতীয় সেনাবাহিনী প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে। পাকিস্তান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং বলেছে, ভারতই উস্কানি দিচ্ছে। এই হামলার পেছনে কাশ্মীর ইস্যু মূল ভূমিকা পালন করছে।
এদিকে, ভারত পাকিস্তানের পাঁচটি স্থানে হামলা চালিয়েছে, যাকে তারা "অপারেশন সিন্দুর" নামে অভিহিত করেছে। তবে পাকিস্তান এই হামলাকে বেসামরিক নাগরিকদের উপর কাপুরুষোচিত আক্রমণ হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং ইতোমধ্যে দুটি ভারতীয় জঙ্গি বিমান ভূপাতিত করেছে। পাকিস্তান জানিয়েছে, তারা এই আগ্রাসনের জবাব দেবে যথাসময়ে এবং যথাস্থানে। এই বুলেটিনে আমরা পাকিস্তানের দৃষ্টিকোণ থেকে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরবো। বুলেটিনের সময়কাল ৫ মিনিট ৩০ সেকেন্ড।
ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে পাকিস্তান দুটি ভারতীয় জঙ্গি বিমান ভূপাতিত করেছে। ভারত কোটলি, বাহাওয়ালপুর, মুরিদকে, বাঘ এবং মুজাফফরাবাদে হামলা চালিয়েছে, যা পাকিস্তানের মতে বেসামরিক এলাকায় সংঘটিত হয়েছে। এই হামলায় তিনজন নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছেন। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা এই কাপুরুষোচিত হামলার জবাব দেবে।
ইসলামাবাদে পরিস্থিতি উত্তপ্ত। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী জানিয়েছেন, ভারত বাহাওয়ালপুরের আহমেদপুর ইস্টে একটি মসজিদ, কোটলি এবং মুজাফফরাবাদে বেসামরিক এলাকায় হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় একটি শিশুসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। পাকিস্তান বিমান বাহিনী দুটি ভারতীয় জঙ্গি বিমান ভূপাতিত করেছে এবং জানিয়েছে, তারা এই আগ্রাসনের জবাব দেবে। পাকিস্তান আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে হামলার স্থান পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানিয়েছে, যাতে ভারতের মিথ্যা দাবি প্রকাশ্যে আসে।
এই হামলার পটভূমি হিসেবে ভারত পাহালগামে গত ২২ এপ্রিলের একটি সন্ত্রাসী হামলার কথা উল্লেখ করেছে, যেখানে ২৬ জন নিহত হয়। পাকিস্তান এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের প্রস্তাব দিয়েছে। তবে ভারত কোনো প্রমাণ ছাড়াই পাকিস্তানকে দায়ী করে এই হামলা চালিয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, ভারত নারী ও শিশুদের উপর হামলা চালিয়েছে এবং মসজিদ ধ্বংস করেছে, যা তাদের হিন্দুত্ববাদী মানসিকতার প্রতিফলন।
পাকিস্তানের জনগণ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। মুজাফফরাবাদে হামলার পর বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বেসামরিক এলাকায় ক্ষতি হয়েছে এবং আহতদের চিকিৎসা চলছে। পাকিস্তান জানিয়েছে, তারা ভারতের এই আগ্রাসনের জবাব দেবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া হিসেবে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের এই পদক্ষেপকে লজ্জাজনক বলে অভিহিত করেছেন।
পাকিস্তান সরকার জাতিসংঘের কাছে এই হামলার তদন্তের দাবি জানিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। পরিস্থিতি এখনো সংকটপূর্ণ। পাকিস্তান জনগণ ও সরকার এই হামলাকে অন্যায় আগ্রাসন হিসেবে দেখছে।