ভারতের তথাকথিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও সামরিক সাফল্যের দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদ জানিয়েছে, তাদের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সামরিক শক্তি ভারতের যেকোনো আগ্রাসন প্রতিহত করতে সক্ষম। পাকিস্তান অভিযোগ করেছে, ভারত সমাজমাধ্যমে ভুয়ো খবর ছড়িয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করছে। আজকের বুলেটিনে আমরা এই ঘটনা এবং পাকিস্তানের দৃঢ় প্রতিক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো।
ভারত দাবি করেছে, গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে তারা জম্মু ও পঞ্জাবে পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে। তারা বলছে, তাদের এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে এবং পাকিস্তানের একটি এফ-১৬ ও দুটি জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান গুলি করে ফেলা হয়েছে। তবে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ -আইএসপিআর এই দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। আইএসপিআর জানিয়েছে, পাকিস্তান কোনো হামলা চালায়নি, এবং তাদের কোনো বিমান বা সামরিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। বরং ভারত নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে এই প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে।
পাকিস্তানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত উন্নত এবং যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় সক্ষম। তাদের এইচকিউ-৯পি/এইচকিউ-৯বিই ব্যবস্থা ১০০ থেকে ২০০ কিলোমিটার পর্যন্ত সুরক্ষা দিতে পারে, যা উন্নত রাডার এবং ১৪ ম্যাক গতির ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সজ্জিত। এছাড়া, এলওয়াই-৮০ এবং এফএম-৯০ ব্যবস্থা ভারতের স্ক্যাল্প বা ব্রহ্মোসের মতো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে কার্যকর। পাকিস্তানের সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের দাবি যে তারা পাকিস্তানের বিমান ধ্বংস করেছে, তা অসম্ভব। পাকিস্তানের জেএফ-১৭ এবং এফ-১৬ বিমান ২০১৯ সালে বালাকোটে ভারতের মিগ-২১ গুলি করে ফেলেছিল, এবং এখনো তারা ভারতের যেকোনো আক্রমণ মোকাবিলায় প্রস্তুত।
পাকিস্তান অভিযোগ করেছে, ভারত সমাজমাধ্যমে ভুয়ো খবর ছড়িয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করছে। ভারতের প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো -পিআইবি দাবি করেছে, পাকিস্তান জলন্ধরে ড্রোন হামলা, রাজৌরিতে ফিদায়েঁ হামলা এবং ‘২০ রাজ ব্যাটালিয়ন’ নামে একটি ভারতীয় সেনাছাউনি ধ্বংসের ভুয়ো খবর ছড়িয়েছে। পাকিস্তান এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেছে, ভারত নিজেই এই ভুয়ো খবর তৈরি করে পাকিস্তানকে হেয় করার চেষ্টা করছে। উদাহরণস্বরূপ, পাকিস্তান জানিয়েছে, ২০২০ সালের বেইরুট বিস্ফোরণের ভিডিওকে ভারত পাকিস্তানের হামলা বলে প্রচার করেছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জাতিসংঘে এই ঘটনা তুলে ধরার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ভারতের এই মিথ্যা প্রচারণা তাদের আগ্রাসী নীতির প্রতিফলন। পাকিস্তানের জনগণ এবং সামরিক বাহিনী ঐক্যবদ্ধভাবে এই প্রোপাগান্ডার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। সমাজমাধ্যমে পাকিস্তানের নাগরিকরা ভারতের ভুয়ো খবরের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন এবং তাদের সেনাবাহিনীর প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। পাকিস্তানের সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের জেএফ-১৭ এবং এফ-১৬ বিমান যেকোনো ভারতীয় হামলার জবাব দিতে প্রস্তুত, এবং তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইসলামাবাদ, লাহোরসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।
পাকিস্তান স্মরণ করিয়ে দিয়েছে ২০১৯ সালের বালাকোট ঘটনা, যখন ভারতের তথাকথিত ‘এয়ার স্ট্রাইক’ ব্যর্থ হয়েছিল। পাকিস্তান তখন ভারতের একটি মিগ-২১ গুলি করে ফেলে এবং ভারতীয় পাইলট অভিনন্দন বর্ধমানকে বন্দি করেছিল। এই ঘটনা পাকিস্তানের সামরিক শক্তি এবং কৌশলগত দক্ষতার প্রমাণ। পাকিস্তানের বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের এস-৪০০ বা বারাক-৮ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বাস্তব যুদ্ধে এখনো পরীক্ষিত হয়নি, যেখানে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বারবার তাদের কার্যক্ষমতা প্রমাণ করেছে।
পাকিস্তান জানিয়েছে, তারা শান্তি চায়, কিন্তু ভারতের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর জবাব দেবে। তাদের সামরিক বাহিনী অত্যাধুনিক রাডার, ক্ষেপণাস্ত্র এবং লড়াকু জেট দিয়ে সজ্জিত। পাকিস্তানের জনগণ তাদের সেনাবাহিনীর পাশে দাঁড়িয়েছে এবং ভারতের মিথ্যা প্রচারণার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ জানাচ্ছে। পাকিস্তানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও এখন আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কাজ করছে।
ভারতের তথাকথিত হামলা ও সাফল্যের দাবি পাকিস্তানের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা এবং কূটনৈতিক অবস্থানের কাছে মুখ থুবড়ে পড়েছে। পাকিস্তানের সামরিক শক্তি এবং জনগণের ঐক্য ভারতের মিথ্যা প্রচারণাকে নস্যাৎ করেছে। ইসলামাবাদ কীভাবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এবং তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে, তা নিয়ে বিশ্ব এখন অপেক্ষায়।