মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৭ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর দাবি করেছিলেন, তিনি বিশ্বের ২০০টি দেশের সঙ্গে শুল্ক চুক্তি সম্পাদনের উদ্যোগ নিচ্ছেন। কিন্তু ক্ষমতার প্রথম ১০০ দিন পার হওয়ার পর এপ্রিলে তার ঘোষণার প্রেক্ষিতে এখন পর্যন্ত সফলভাবে চুক্তি হয়েছে মাত্র তিনটি দেশের সঙ্গে—চীন, যুক্তরাজ্য ও ভিয়েতনাম।

ট্রাম্প প্রশাসন শুরুতে একটি নির্ধারিত সময়সীমা দিয়েছিল—যার মধ্যে সব দেশকে চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে, না হলে তাদের ‘উচ্চতর পারস্পরিক শুল্ক’-এর মুখোমুখি হতে হবে। তিনি ৯ জুলাইকে ঘোষণা করেছিলেন "মুক্তি দিবস", যার পর যুক্তরাষ্ট্র এসব দেশে শুল্ক আরোপ করবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করেছেন, এই সময়ের মধ্যে অধিকাংশ দেশের সঙ্গে আলোচনা শেষ করা সম্ভব নয়।

হোয়াইট হাউস সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ট্রাম্প আশা করেছিলেন, এই সময়ের মধ্যেই অধিকাংশ চুক্তি বাস্তবায়িত হবে। কিন্তু বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে, এখন তিনি কৌশল পরিবর্তন করেছেন। বর্তমানে তিনি অংশীদার দেশগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠাচ্ছেন এবং আলোচনার সময়সীমা বাড়িয়ে ১ আগস্ট পর্যন্ত করেছেন।

বিশেষভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে, যার জন্যই সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। ট্রাম্প মনে করছেন, শুল্ক আরোপের হুমকি দেশগুলোকে আলোচনায় টানার কার্যকর পন্থা হতে পারে।

তবে সমালোচকরা বলছেন, এত বড় মাত্রায় শুল্কচুক্তির প্রতিশ্রুতি দিয়ে মাত্র তিনটির বাস্তবায়ন ট্রাম্প প্রশাসনের কূটনৈতিক প্রস্তুতির ঘাটতি এবং সময় ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাই প্রমাণ করে। শুল্ক কূটনীতির এই জটিল বাস্তবতায় ওয়াশিংটনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা কতটা সফল হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Walton Ads