শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম সুপারিশ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। এক সাম্প্রতিক বৈঠকে নেতানিয়াহু জানান, “ট্রাম্প একের পর এক অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছেন।” সেই সময় তিনি নোবেল কমিটিকে পাঠানো চিঠির একটি কপি ট্রাম্পকে উপহার দেন।
শুধু নেতানিয়াহু নন, পাকিস্তানও গত জুনে ট্রাম্পকে শান্তিতে নোবেল দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতা করায় তারা ট্রাম্পের ভূমিকাকে মূল্যায়ন করছে। যদিও পরে ইরানে মার্কিন হামলা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
এমন প্রস্তাব অনেককে মনে করিয়ে দেয় পূর্বের বিতর্কিত শান্তি পুরস্কার বিজয়ীদের কথা।
২০০৯ সালে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৯ মাসের মাথায় পুরস্কার পান, যা নিয়ে তিনি নিজেই ছিলেন বিস্মিত। পরে নোবেল ইনস্টিটিউটের সাবেক প্রধান স্বীকার করেন, সেই সিদ্ধান্ত ছিল তাড়াহুড়োর।
১৯৯৪ সালে ইয়াসির আরাফাত, শিমন পেরেস ও আইজ্যাক রবিনের যৌথ পুরস্কারেও বিতর্ক হয়, বিশেষ করে আরাফাতের সশস্ত্র অতীত নিয়ে।
১৯৭৩ সালে হেনরি কিসিঞ্জার ভিয়েতনাম যুদ্ধ বন্ধের জন্য শান্তিতে নোবেল পান, অথচ তার নাম জড়িয়ে ছিল কম্বোডিয়ায় গোপন বোমা হামলায়।
অং সান সু চি, আবি আহমেদ এবং ওয়াঙ্গারি মাথাইর মতো বিজয়ীরাও পরবর্তী সময়ে নানাভাবে সমালোচিত হন। মাথাই একবার এইচআইভিকে "জৈব অস্ত্র" বলেও বিতর্কে জড়ান।
সবচেয়ে আলোচিত বাদ পড়া নাম মহাত্মা গান্ধী, যিনি পাঁচবার মনোনীত হলেও পুরস্কার পাননি। বহু বিশেষজ্ঞ একে নোবেল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য হিসেবে দেখেন।
ট্রাম্পের প্রস্তাব তাই নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেও, এটি নোবেল ইতিহাসে অনন্য নয়।