ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আনতে ষড়যন্ত্র করার অভিযোগে ফেডারেল পুলিশ তার বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এই তল্লাশি চালানো হয়, যা বলসোনারোর দেশত্যাগের সম্ভাবনার প্রেক্ষাপটে পরিচালিত হয়।

সুপ্রিম কোর্ট জানায়, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার বিজয়ের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টার সঙ্গে বলসোনারোর জড়িত থাকার প্রমাণের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আদালতের মতে, বলসোনারোর দেশ ছাড়ার আশঙ্কা “গভীর” এবং তিনি তার ছেলে ও আইনপ্রণেতা এডুয়ার্দোর মাধ্যমে ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রশাসনের ওপর প্রভাব ফেলার চেষ্টা করেছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, বলসোনারোর ছেলে যুক্তরাষ্ট্রে লবিং করে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপে ট্রাম্প প্রশাসনকে প্রভাবিত করতে চেয়েছিলেন। ট্রাম্প সম্প্রতি বলসোনারোর পক্ষে না গেলে ব্রাজিলের পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দেন।

বিষয়টি নিয়ে বলসোনারোর আইনজীবীরা আদালতের পদক্ষেপে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট সব সময় আদালতের আদেশ মেনে চলেছেন। বলসোনারো নিজেও দেশ ছেড়ে পালানোর পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করে বলেন, “এই পদক্ষেপ শুধু রাজনৈতিক অপমান।”

এদিকে, আল-জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনার প্রতীক। প্রেসিডেন্ট লুলা ট্রাম্পের শুল্ক হুমকিকে “অযৌক্তিক” আখ্যা দিয়ে বলেন, “বলসোনারো বিচার পাচ্ছেন একটি অভ্যুত্থানের চেষ্টার জন্য, ব্যক্তি হিসেবে নয়।”

এই ঘটনার জেরে ব্রাজিলের রাজনৈতিক অঙ্গন আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

Walton Ads