ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক হুমকিকে "অগ্রহণযোগ্য চাঁদাবাজি" আখ্যা দিয়েছেন। সম্প্রতি ট্রাম্প ব্রাজিলের রপ্তানিতে ৫০% শুল্ক আরোপের হুমকি দেন, যা দুই দেশের সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের পেছনে কারণ হিসেবে ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর বিচার প্রক্রিয়াকে উল্লেখ করা হয়েছে। বলসোনারোকে লুলা সরকারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান পরিকল্পনার অভিযোগে বিচার করা হচ্ছে, যা ট্রাম্প "রাজনৈতিক প্রতিশোধ" বলে অভিহিত করেছেন।
প্রেসিডেন্ট লুলা জোরালোভাবে এই হস্তক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে বলেন, "ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কেউ হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। আমরা বাণিজ্যিক সম্পর্ক চাই, কিন্তু চাঁদাবাজি মেনে নেব না।" তিনি ট্রাম্পপন্থী ব্রাজিলীয় রাজনীতিবিদদেরও "মাতৃভূমির বিশ্বাসঘাতক" বলে কটাক্ষ করেন।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা এই সংঘাতকে উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছেন। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের মার্টিন উল্ফ সতর্ক করেছেন, ট্রাম্পের এই নীতি বৈশ্বিক বাণিজ্যে মারাত্মক অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে। ইইউর সাবেক এক কর্মকর্তা ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে "মাফিয়া স্টাইলের চাঁদাবাজি" বলে বর্ণনা করেছেন।
এই শুল্ক ২০২৫ সালের ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হতে পারে বলে জানা গেছে। ব্রাজিল যদি প্রতিক্রিয়া হিসেবে জবাবি শুল্ক আরোপ করে, তাহলে এটি লাতিন আমেরিকা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধের সূচনা করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রেসিডেন্ট লুলা জোর দিয়ে বলেছেন, ব্রাজিল তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃঢ় থাকবে। এই সংকট মোকাবেলায় তিনি কূটনৈতিক সমাধান খুঁজবেন বলেও জানিয়েছেন।
