৬৫ বছরের সামরিক উপস্থিতির অবসান ঘটিয়ে ফ্রান্স শেষ পর্যন্ত সেনেগাল থেকে তার সেনা প্রত্যাহার শুরু করেছে। গত মার্চ থেকে ফরাসি সেনাবাহিনী ধাপে ধাপে সেনেগালের সামরিক ঘাঁটিগুলো হস্তান্তর করে এবং বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ ঘাঁটিটির দায়িত্ব সেনেগালের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এই সেনা প্রত্যাহারের ফলে পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকায় ফ্রান্সের আর কোনো স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি থাকছে না। আগামী তিন মাসের মধ্যে বাকি প্রায় ৩৫০ জন ফরাসি সেনাও দেশটি ছাড়বে। তারা এতদিন সেনেগালের সেনাবাহিনীর সঙ্গে যৌথ অভিযানে যুক্ত ছিল।

এর আগে মালি, নাইজার এবং বুরকিনা ফাসোতেও ফরাসি বাহিনীকে বিতাড়িত করা হয়েছে। এসব দেশের জনগণ মনে করে, ফরাসি সেনারা নিরাপত্তা বাড়ানোর বদলে সন্ত্রাস, সহিংসতা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়িয়েছে।

সাধারণ জনগণের ক্ষোভের অন্যতম কারণ হচ্ছে—ফরাসি সেনাদের দ্বারা পরিচালিত ভুল হামলা, গণকবরের সন্ধান এবং উপনিবেশিক শোষণের স্মৃতি। এসব কারণে আফ্রিকার জনগণের মধ্যে ফ্রান্সবিরোধী মনোভাব আরও তীব্র হয়েছে।

নতুন প্রজন্ম তাদের দেশের উপর আর কোনো বিদেশি প্রভাব বা আধিপত্য মানতে চায় না। তারা চায় নিজস্ব রাজনৈতিক পথ তৈরি করতে এবং নতুন বৈশ্বিক শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে।

চীন, রাশিয়া ও ইরানের মতো দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধির আগ্রহই প্রমাণ করে যে, আফ্রিকার দেশগুলো এখন স্বাধীন ও বিকল্প পথ খুঁজছে।

ফ্রান্সও বুঝতে পেরেছে যে, আগের মতো ‘নিয়ন্ত্রণমূলক’ নীতি আর কার্যকর নয়। তাই তারা বাধ্য হয়েছে সেনা ফিরিয়ে নিতে এবং আফ্রিকা নীতিতে পরিবর্তন আনতে।

সেনেগালের জনগণ এই সেনা প্রত্যাহারকে দেশের স্বাধীনতার একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখছে। তারা বিশ্বাস করে, সত্যিকারের মুক্তি তখনই আসে যখন জাতি নিজের ভাগ্য নিজের হাতে তুলে নেয়।

এই পরিবর্তন শুধু সেনেগাল নয়, গোটা আফ্রিকা মহাদেশের একটি নতুন দিকচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—যেখানে আর কোনো ঔপনিবেশিক শক্তির ছায়া চলবে না।

Walton Ads