মিয়ানমারের নাগা স্বশাসিত অঞ্চলে সাম্প্রতিক ড্রোন হামলাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ২০২৫ সালের ১৩ জুলাই ভোররাতে সীমান্তের খুব কাছাকাছি থাকা ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অফ আসাম (ইন্ডিপেন্ডেন্ট) – উলফা (আই) এবং মণিপুরভিত্তিক পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)-এর শিবিরে একযোগে হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত ৩ জন নিহত ও ১৯ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা ভারত ও মিয়ানমারের মধ্যে জটিল ভূ-রাজনৈতিক হিসাবের প্রতিফলন। জানা গেছে, হামলার কয়েক মাস আগে উলফা (আই)-এর শীর্ষ নেতা পরেশ বড়ুয়া মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলের তাগা এলাকায় ভ্রমণ করেন এবং সেখানকার অন্যান্য বিদ্রোহী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তার এই সফরই হামলার পেছনে মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
হামলার পরপরই ভারতীয় সেনাবাহিনী সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করে। তবে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর দাবি, ভারতীয় সেনাবাহিনীই উন্নত প্রযুক্তির প্রায় ১৫০টি ড্রোন ব্যবহার করে এই অভিযান চালিয়েছে। তাদের মতে, হামলায় ইসরায়েল ও ফ্রান্সে তৈরি কামিকাজে ড্রোন ও হেরন ইউএভি ব্যবহৃত হয়েছে।
এই হামলার পেছনে চীন ও মিয়ানমারের ভূমিকা নিয়েও জল্পনা রয়েছে। অতীতে ভারত ও মিয়ানমার একাধিকবার যৌথ বা আলাদা অভিযানে সীমান্তবর্তী বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে। তবে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমার সেনাবাহিনী এখন নিজেদের স্বার্থে কিছু ভারতবিরোধী বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে সমঝোতায় আছে। ফলে, মিয়ানমারের সাম্প্রতিক হামলায় সরাসরি জড়িত থাকার সম্ভাবনা কম।
চীন-ভারত সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এই ঘটনার তাৎপর্যও গুরুত্বপূর্ণ। চীন দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ রাখছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরেশ বড়ুয়ার তাগা সফরের রুটও এমন একটি এলাকা দিয়ে, যেটি চীনের প্রভাবাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে।
সব মিলিয়ে, মিয়ানমারে এই ড্রোন হামলা শুধুমাত্র একটি বিচ্ছিন্ন সামরিক ঘটনা নয়, বরং এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জটিল ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ এবং চীন-ভারত প্রতিদ্বন্দ্বিতারই আরেকটি প্রকাশ।