মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার প্রতি শক্ত অবস্থান গ্রহণ করেছেন। তিনি রাশিয়ার প্রতি পাল্টা বার্তা দিতে দুটি পারমাণবিক সাবমেরিনকে নতুন অবস্থানে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বর্তমান নিরাপত্তা পরিষদের উপ-চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবস্থাকে অবহেলা করা বিপজ্জনক হতে পারে। এর প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প এই পদক্ষেপ নেন।

ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে বলেন, তিনি সাবমেরিনগুলোকে উপযুক্ত জায়গায় পাঠিয়েছেন যেন রাশিয়ার 'বোকামি ও উস্কানিমূলক কথাবার্তার' বিরুদ্ধে প্রস্তুত থাকা যায়। তিনি সতর্ক করে বলেন, কথারও ফলাফল হতে পারে।

সম্প্রতি ট্রাম্প ও মেদভেদেভের মধ্যে অনলাইনে কথার লড়াই বেড়েই চলেছে। মেদভেদেভ বলেন, রাশিয়ার প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের কিছু কথায় ট্রাম্প যদি এতটাই সাড়া দেন, তবে রাশিয়া নিজের পথে ঠিক আছে।

ট্রাম্প পরে মেদভেদেভকে আক্রমণ করে বলেন, তিনি রাশিয়ার ব্যর্থ প্রেসিডেন্ট, যিনি এখন বিপজ্জনক অঞ্চলে প্রবেশ করছেন। ট্রাম্প বলেন, আমেরিকা ও রাশিয়ার ব্যবসায়িক সম্পর্ক নেই, এবং এভাবেই থাকা উচিত।

এর আগে জুনেও তারা পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে অনলাইনে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়েছিলেন। তখন ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন, মেদভেদেভ নাকি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র দেওয়ার কথা বলেছেন।

ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হলো তাদের পারমাণবিক সাবমেরিন। এগুলো এমন শক্তিশালী, যা ২০ বছর আগেও বিশ্বে অন্য কারো ছিল না।

তিনি বলেন, মেদভেদেভ পুতিনের ‘বস’ হয়ে থাকলেও তার বক্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন। তিনি রাশিয়ার আক্রমণাত্মক মনোভাবকে খারাপভাবে নেন।

ট্রাম্প ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার হাতে মাত্র কয়েক দিন আছে। না হলে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হবে।

তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকে একনায়ক বলে আখ্যা দেন এবং রাশিয়ার কিছু দাবি মেনে নিতে বলেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এখন তিনি রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও কঠোর ভাষা ব্যবহার করছেন।

রাশিয়া ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে গোলাবর্ষণ করলে ট্রাম্প বলেন, রাশিয়ার এই কর্মকাণ্ড ঘৃণ্য ও অগ্রহণযোগ্য। তবে মেদভেদেভ বলেন, রাশিয়া হুমকিতে ভয় পায় না এবং ট্রাম্পের আলটিমেটাম নীতিকে যুদ্ধের দিকেই এগিয়ে যাওয়া বলে মন্তব্য করেন।

 

news